রাসুল (সঃ) সকল জায়গায় হাজির- নাজির উপস্থিত

এমন কি মানুষের মুমিন অন্তরেও অবস্থান করেন

 

আলহাজ মাওলানা হযরত সৈয়দ জাকির শাহ্ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী

 নবীজির হাজির-নাজির সম্পর্কে কুরআনুল কারিমে সূরা- ফাত্হ, ৮নং  আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ইন্না আরসালনা-কা শা-হিদাওঁ ওয়া মুবাশ্শিরাওঁ ওয়া নাজিরা’। অর্থ : হে হাবীব (সঃ) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে হাজির-নাজির বা প্রত্যক্ষকারী সাক্ষি, সুসংবাদদাতা এবং  সর্তককারী নবী-রাসুল হিসাবে প্রেরণ করেছি।

সূরা: মোজাম্মেল, ১৫ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা আরো বলেন, ‘ইন্না আরসালনা ইলাইকুম রাসূলান শা-হিদান আলাইকুম’। অর্থ : নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে একজন রাসুল প্রেরণ করিয়াছি, যিনি তোমাদের হৃদয়ে হাজির-নাজির উপস্থিত বা প্রত্যক্ষকারী সাক্ষিদাতা।

সূরা আহযাব, ৬নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আন্নাবিয়্যু আওলা- বিল্ মু’মিনীনা মিন আনফুসিহিম’। অর্থ: নবীজি (সঃ) মানুষের মুমিন অন্তরে অবস্থান করেন।

 সুরা: নিসা, ৮০ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা আরো বলেন, ‘মাই ইউত্বি’ইর রাসূলা ফাক্বাদ আত্বা-আল্লা-হ’। অর্থ : যে রাসুল (সঃ)-এর আনুগত্য করল, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল।

সুরা: নিসা, ১৫০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘ওয়া ইউরীদূনা আইঁ ইউফাররিক্বু বাইনাল্লা-হি ওয়া রুসুলিহী’। অর্থ : তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের মধ্যে পৃথক কর না।

ব্যাখ্যা : নবী কারিম (সঃ) আপনার প্রকৃত রূপ তো মানবীয় দেহের আবরণে ঢাকা পড়ে আছে। আপনাকে আপনার গোপনকারী ও আবরণকারী মাহবুব ছাড়া কেহই চিনতে পারে নাই। (মৌলভী আবুল কাশেম নানুতবী, প্রতিষ্ঠাতা- দেওবন্দ মাদ্রাসা)

কিছু কিছু ভ্রান্ত আকিদা বনর্ণাকারীরা বলিয়া থাকেন যে, রাসুল (সঃ) হাজির-নাজির হতে পারেন না, অথচ তাদের শিক্ষাগুরু, মুরুব্বিগণরাই রাসুলপাকের হাজির-নাজিরের কথা বলিয়া গেছেন এবং তা আমল করে গেছেন। তাদের পীরদের পীর, ওস্তাদদের ওস্তাদ মৌলভী আশরাফ আলী থানবী সাহেব তিনিও রাসুলপাক (সঃ)-এর হাজির-নাজিরের কথা বলেছেন এবং তা আমলও করে  গেছেন। কিন্তু বর্তমানে কিছু ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসীগণ তা অস্বীকার করেন  এবং অন্যকে না করার নির্দেশ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করেন। আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। মৌলভী আশরাফ আলী থানবী একই সময়ে কয়েক জায়গায় হাজির-নাজির থাকার ঘটনা।

খাজা আজিজুল হাসান সাহেব তার কিতাবে মৌলভী আশরাফ আলী থানবী সাহেবের নিন্মবর্ণিত আশ্চর্যজনক বেশ কিছু ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন। তা থেকে দুটি ঘটনা হুবহু উপস্থাপন করা হল, অনেক দিন হল, এক ব্যক্তি আমাকে এ খানকায় তার ঘটনাটি বর্ণনা করেন। হুজুরকে তো এখানে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু কি জানি এখন তিনি কোথায় যাচ্ছেন? কেননা আমি একবার নিজেই হুজুরকে থানাবুনে থাকা সত্বেও আলীগড়ে দেখেছি। তখন সেখানে একটি মেলা হচ্ছিল এবং মেলায় তখন মারাত্মক আগুন লেগেছিল। সেদিন আছরের সময় থেকে আমার মনে অস্বাভাবিক একটি ভয় হচ্ছিল। বেচা-কেনার মোক্ষম সময়ে আমি দোকানে মালপত্র বাক্সে রাখছিলাম। মাগরিবের পর অগ্নিকান্ডের ভয়াবহতা দেখা দিল। আমি বিচলিত হয়ে পড়লাম। হে আল্লাহ! মালগুলো কিভাবে দোকানের বাইরে নিয়ে যাই? কারণ আমি একা আর বাক্সগুলোও ভারী। এসময়ে আমি হঠাৎ দেখি আমার পীর (থানবী) আমার সামনে হাজির। তিনি একটি বাক্সের এক অংশ ধরে বললেন, তাড়াতাড়ি উঠাও। সে মতে এক দিকে তিনি ধরলেন অন্য দিকে আমি ধরলাম। এভাবে অল্পক্ষণের মধ্যেই বাক্সগুলো বের করে ফেললাম। সেই অগ্নিকান্ডের অন্যান্য দোকানদারদের অনেক ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু আমার মালপত্রসমূহ ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়, (আসরাফুস সাওয়ানেহ, দ্বিতীয় খ-, পৃষ্ঠা ৭১)।

মৌলভী আশরাফ আলী থানবীর প্রপিতামহের অলৌকিক ঘটনা। মৌলভী আশরাফ আলী থানবীর প্রপিতামহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সাহেব এক বর-যাত্রীর সাথে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ডাকাত দল আক্রমণ করল। তার কাছে তীর-ধনুক ছিল। তিনি সাহস করে তীর নিক্ষেপ করলেন। ডাকাতদের সংখ্যা অধিক হওয়ায় ওই মোকাবেলায় তিনি শহীদ হন। এরপর এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। জনাব ফরিদ উদ্দিন রাতে নিজের ঘরে জীবিত মানুষের মত তসরিফ আনলেন এবং স্ত্রীর হাতে মিষ্টি দিয়ে বললেন, যদি তুমি আমার এ সাক্ষাতের বিষয় কারো কাছে প্রকাশ না কর, তাহলে আমি এভাবে প্রতিদিন আসব। কিন্তু তার স্ত্রী পরর্বতীতে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথাকে চিন্তা করে, ঘটনাটি প্রকাশ করে দেন। এরপর তিনি আর দেখা দেননি। এ ঘটনাটি তাদের বংশের মধ্যে কিংবদন্তি হয়ে আছে, (আসরাফুস সাওয়ানেহ, প্রথম খ-, পৃ:১২)। কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস পর্যালোচনা করে দেখা গেল যে, রাসুল (সঃ) হাজির-নাজির তো বটেই, আল্লাহর অলি-আউলিয়াগণও ভক্ত-মুরিদের কাছে তদ্রুপ উপস্থিত হইয়া তাকে সাহায্য করে থাকেন। তার প্রমান মৌলভী আশরাফ আলী থানবী সাহেবের দুটি ঘটনা উল্লেখ করা হইল।

(Visited 315 times, 1 visits today)
Share