প্রিয় নবী (সঃ)-এর ব্যবহৃত পোশাক জুব্বা পাগড়ী এবং চুল মোবারকের পরিধির বিবরণ

আলহাজ মাওলানা হযরত সৈয়দ জাকির শাহ্ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী

মোজা ও জুব্বা মোবারক : শাহ্ আব্দুল হক মোহদ্দেছ দেহলভী (রঃ)-এর লিখিত বিখ্যাত কিতাব মাদারেজুন নবুয়ত অষ্টম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ২৯১ এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, রসুলেপাক (সঃ)-এর দুটি সাদা মোজা ছিল। বাদশাহ্ নাজ্জাশী হুজুর (সঃ)-কে হাদিয়া দিয়েছিলেন। তিনি তা সফরকালে পরিধান করতেন।

রসুলেপাক (সঃ)-এর তিনটি জুব্বা মোবারক ছিল। যুদ্ধকালে তিনি পরিধান করতেন। একটি জুব্বা ছিল সু-দস মিশ্রিত রেশমের, আরেকটি ছিল আতলাসের তিলসান নামক স্থানে তৈরী পোশাক। তিলসান ইয়েমেনের একটি প্রসিদ্ধ জায়গার নাম। তৃতীয় জুব্বা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও কাপড় কেটে সেলাই করে যে জামা প্রস্তুত করা হয় তাকে জুব্বা বলে। আর সে জামার যদি পকেট থাকে, তাহলে তাকে কামিজ বলে। আর যদি পকেট না থাকে তাকে কাবা বলা হয়, আর অন্যগুলোকে সাধারণভাবে জুব্বা বলা হয়। চাদর ও পাগড়ীকে জুব্বা বলা হয় না। তবে রসুল (সঃ)-এর দ্বিতীয় প্রকারের জুব্বাকে আতলাস বা তায়ালিসা বলা হত। তিলসান নামক স্থানের প্রস্তুত বলে তার এমন নামকরণ করা হয়েছিল। এটা একটি আজমী পোশাক ছিল যা ছিল কালো রঙের এবং গোলাকৃতির। তার তানা এবং বানা উভয়টি ছিল পশমের। হযরত আয়েশা (রাঃ) বিনতে আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসুল (সঃ)-এর এই জুব্বা মোবারক হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ)-এর কাছে ছিল। রসুল (সঃ)-এর ওফাতের পর হযরত সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি আয়েশা সিদ্দিকার কাছ থেকে জুব্বাটি নিয়েছিলাম, রোগের শেফার জন্য, আমি ধৌত করে লোকদেরকে পানি পান করাতাম। হাদিসে মুসলিম শরীফ ২য় খন্ডে উল্লেখ্য আছে। তবে অধিকতর বর্ণনা ও বিশেষজ্ঞদের বর্ণনা মতে প্রমাণ যাওয়া যায়, রসুলেপাক (সঃ)-এর ওফাতের পর আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ)-এর নিকট হুজুরের পরিধেয় যেসব পবিত্র বস্তু ছিল। বোরদ (চাদর), সাহারী জামা, উমানী লুঙ্গী, একটি ধোলাই করা কামিস, ইয়ামেনী জুব্বা, খমীসা, কাতীফা, সাদা চাদর এবং একটি লেপ যা ‘ওয়ারস’ দ্বারা রাঙ্গানো ছিল। ওয়ারস শব্দটি হিব্রু ভাষা যার অর্থ বিভিন্ন রঙে রাঙানো জিনিস। আর হুজুর (সঃ)-এর সাহারী একটি গ্রামের নাম। যাহা ইয়েমেনে অবস্থিত, এ জামাটি সাহারী গ্রামে তৈরী হয়েছে বলে তাহাকে সাহারী জামা বলে। হাদিসে এসেছে রসুলেপাক (সঃ)-কে দুটি সাহারী কাপড় দ্বারা দাফন করা হয়েছিল। আবার সাহার শব্দ দ্বারা হালকা লালকেও বুঝায়, আর উমানী লুঙ্গী দ্বারা বুঝানো হয়েছে ‘উমান’ ইয়েমেনের একটি শহরের নাম। হুজুর (সঃ)-এর এই লুঙ্গীটির রঙ ছিল সাদা ধবধবে। ‘তারিখে খোলাসা’ কিতাবে পাওয়া যায় হুজুর (সঃ)-এর একটি রেশমী লুঙ্গী ছিল। যা তিনি মাঝে-মাঝে পরিধান করতেন এবং হুজুর (সঃ)-এর একটি জুব্বা মোবারক ছিল পাতলা চামড়া দিয়ে আবৃত, অধিকাংশ যুদ্ধে হুজুর (সঃ) এ জুব্বা পরিধান করতেন।

পাগড়ী : হুজুর (সঃ)-এর দুটি পাগড়ী মোবারক ছিল। যাকে সাহাব বলা হত। তাছাড়া হুজুর (সঃ)-এর আর একটি কালো পাগড়ী ছিল, যাহা পরিহিত অবস্থায় তিনি সাহাবায় কেরামকে নসিহতবাণী পেশ করতেন। তবে বোখারী শরীফের বর্ণনায় পাওয়া যায় হুজুর (সঃ)-এর একটি সবুজ পাগড়ী ছিল, যাহা হুজুর (সঃ)-কে আবসিনিয়ার বাদশাহ্ নাজ্জাশী উপঢৌকন হিসেবে হাদিয়া দিয়াছিলেন। (মাদারে জুন নবুয়্যাত’ ৮ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ২৯১)। তবে পাগড়ীর ভিতরে রৌপ্য খচিত পিটুপি দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল।

(হাদিস: ১৬৯৮) হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসুল (সঃ) মধ্যম আকৃতির ছিলেন। রাসুল (সঃ) দীর্ঘদেহীও ছিলেন না। রাসুল (সঃ)-এর গায়ের রঙ ছিলো বাদামী’। আবু ঈসা বলেন, হুমাইদ আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত এ হাদিসটি হাসান।

(হাদিস: ১৬৯৯) আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি ও রাসুল (সঃ) একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। তার বাবড়িচুল কাঁধের উপরে কিন্তু কানের লতির নিচ পর্যন্ত লম্বা ছিল’।

আবু ঈসা বলেন, উপরোক্ত সনদসূত্রে এ হাদিসটি হাসান সহীহ্’। উল্লেখিত হাদিসটি আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) থেকে আরো কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে তাতে ‘রাসুল (সঃ) বাবড়িচুল কাঁধের উপরে কিন্তু কানের লতিকার নিচ পর্যন্ত লম্বা ছিল’। আবদুর রহমান ইবনে আবুস যিনাত, তাঁর বর্ণনায় এই শেষের অংশটুকু উল্লেখ করেছেন। তিনি একজন সিকাহ (আস্থাভাজন) বর্ণনাকারী এবং হাদিসে হাফেজ ছিল।

(হাদিস: ১৭২৭) উম্মে হানি (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লহ (সঃ) যখন মক্কায় আগমন করেন তখন তার মাথার চুলে চারটি বেনী ছিল’ ( ই. দা)।

(হাদিস: ১৭২৮) উম্মে হানি (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু (সঃ) যখন মক্কায় আগমন করেন তখন তাঁর মাথায় চারটি বেনী ছিল’ (আ. ই. দা.)।

হযরত আবু ঈসা বলেন, এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ্’।

(Visited 1,848 times, 1 visits today)
Share