প্রার্থনাই শক্তি ধ্যানই মুক্তি

আলহাজ মাওলানা হযরত সৈয়দ জাকির শাহ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী

‘ওয়া আন আবি হুরায়রা রাঃ ক্বালা ক্বালা রাসুলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্নাল্লাহা তায়ালা ক্বালা ওয়ামা তাক্বাররাবা ইলাই-ইয়া আবদ্বী বিশাই ইন আহাব্বু ইলাই-ইয়া মিম্মাফ তারারত্তু আলাহি, ওয়ালা ইয়াযালু আবদ্বী ইয়াতাকাররাবু ইলাই-ইয়া বিন নাওয়াফিলি হাত্তা আহাবাবতুহু ফা ইযা আহাবাবতুহু ফাকুনতু সাম আহুল্লাাযী ইয়াসমাউ বিহি ওয়া বাছারা হুল্লাযী উবছিররুবিহি ইয়াদাহুল্লাতী ইউবতিশু বিহা ওয়া রিজলাহু হুল্লাতি ইয়ামশী বিহা।
অর্থ: প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘আমার বান্দা ফরজ আদায়ের মধ্য দিয়ে আমার নৈকট্য লাভ করে। ফরজ আদায়ের পর নফল ইবাদতের মাধ্যমে তারা আমার ভালোবাসা লাভ করে। আমি যখন কাউকে ভালোবাসি তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। যখন সে যদি আমার কাছে কিছু চায় বা দাবী করে কখনো কখনো আমি তাকে তা-ই দিই। (হাদিসে কুদসী, রাওয়াহু বুখারী ও মুসলিম)
যদি কেউ আল্লাহতায়ালার কুদরতী শক্তি অর্জন করতে চান, আল্লাহকে লাভ করতে চান, পেতে চান, দেখতে চান, মিরাজ ও দর্শন করতে চান তাহলে প্রত্যেক নর-নারীকে অবশ্যই প্রার্থনা, রিয়াজত ও সাধনা করতে হবে।

Prayer, in the ritual sense, is an obligation of the faith, to be performed five times a day by adult Muslims. According to Islamic law, prayers have a variety of obligations and conditions of observance. However, beyond the level of practice, there are spiritual conditions and aspects of prayer which represent its essence.
In the Holy Quran, Allah says: I created the jinn and humankind only that they might worship Me.Thus, prayer first and foremost, is the response to this Divine directive to worship the Creator.
Prayer only way to peace and refreshment for humankind. Will have the gain spiritual power. be carried of Allah prophet Mohammad (sm.) and saint. Known to himself and try to understand who is creator. All Kind secret conversation with Allah. Praying is the freedom place for humankind. This called prayer.

এক ঘন্টা আল্লাহতায়ালাকে চিন্তা করা একশ বছরের ইবাদত হতে উত্তম। আল্লাহতায়ালা কোরআন মাজিদে বারবার চিন্তা বা ধ্যান মোরাকাবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। চিন্তা বা ধ্যানের আসল উদ্দেশ্য মহান আল্লাহকে লাভ করা। কাজেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা গুহায় সুদীর্ঘ ১৫ বছর ধ্যান করেছেন পরিপূর্ণ ইসলামের পথে পথে ধ্যান বা মোরাকাবাই প্রধান মুক্তির পথ। ধ্যানের মাধ্যমে আল্লাহর চৈতন্যময় অস্তিত্বের মাঝে বিলুপ্ত হয়ে আপন অস্তিত্বকে খুঁজে পায়। তরিকতের ভাষায় চারটি স্তরের কথা বলা হয়েছে।

(ক) ফানা ফির নফস বা অযুদ
(খ) ফানা ফিশ শায়েখ
(গ) ফানা ফির রাসুল
(ঘ) ফানা ফিল্লাহ

ফানা ফির নফস বা অযুদ হচ্ছে নফসে আম্মারাহ, কু-প্রবৃত্তি, কু-মন্ত্রনা, কামনা-বাসনা, ইচ্ছা ও আর্কষণ ইত্যাদি ধ্বংস করার নামই হচ্ছে ফানা ফির নফস বা অযুদ। দুনিয়াবী সকল কিছু বাদ দিয়ে ঐশী গুণাগুণ অর্জন করাই এ স্তরের কাজ। নফসে আম্মারাহ হতে আসা কু-স্বভাবগুলো যেমন লোভ, কাম, ক্রোধ, মোহ, মদ, মাৎসর্য, হিংসা ও নিন্দা ইত্যাদি দূর করে নিজেকে পবিত্র করতে হবে। নিজের মাঝে যে আমিত্ব বা তুমিত্ব থাকে তা থেকে নিজেকে পৃথক করতে হবে। ফানা ফিশ শায়েখ- ফানা ফির নফস বা অযুদ Complete হওয়ার পর ফানা ফিশ শায়েখ স্তর শুরু হয়। ফানা ফিশ শায়েখ স্তরে পৌঁছতে হলে একজন কামেল মুর্শিদের প্রয়োজন, যাকে আরবীতে শায়েখ বলে। কামেল পীর-মুর্শিদের নিকট বাইয়াত ও মুরিদ হওয়া ছাড়া কারো কোন কালেই ফানা ফিশ শায়েখ হাসিল হবে না। ফানা ফির রাসুল, ফানা ফির রাসুল বলতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে বিলিন হওয়াকে বুঝায়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মোহাব্বত অন্তরে অনুধাবন করাই ফানা ফির রাসুল। ফানা ফির রাসুল স্তরে সাধক ধ্যানের মাধ্যমে রাসুল সাল্লাল্লাাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূর দর্শন করে এবং নিজেকে নূরে মোহাম্মদীর মধ্যে বিলিন করে দেয়।

ফানা ফিল্লাহ- ফানা ফিল্লাহ অর্থ আল্লাহতে বিলিন হয়ে নিজের অস্তিত্ব¡কে মিশিয়ে দেওয়া। যেমনিভাবে লবণ পানিতে মিশে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে, তেমনিভাবে সাধক আল্লাহর মাঝে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। কামার লোহা দিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করে কিন্তু লোহা আর আগুন এক নয়, যখন লোহকে আগুনের মধ্যে রাখা হয় তখন আগুনের তাপে লোহাটি আগুনে পরিণত হয়। অর্থ্যাৎ আগুনের গুণাগুণ লোহার মধ্যে চলে আসে। আগুন যখন কোন কিছুকে পোড়ায় সেই লোহা খন্ডটি দিয়ে পোড়াইবার কাজ করানো যায়, তেমনিভাবে সাধক যখন আল্লাহর মোরাকাবা-মোশাহেদা করতে করতে এস্কের মধ্যে ডুবে যায়, তখন মাবুদের গুণাবলি ওই সাধকের মধ্যে চলে আসে, কিন্তু জাহেরী লোকজন তা বুঝতে পারে না। সামান্য আগুন যদি লোহাকে পুড়িয়ে আগুনে পরিণত করতে পারে ,তাহলে আল্লাহর এস্কের আগুন কি সাধককে আল্লাহময় করতে পারে না? অবশ্যই পারে।

হে সম্মানিত পাঠকগণ! আপনারা মনযোগের সাথে দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে কিছু সময় আল্লাহতায়ালাকে চিন্তা বা ধ্যান-মোরাকাবা করুন। আমার এই নকশবন্দিয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকার শিক্ষার ভিতরে অন্যতম শিক্ষা ধ্যান-মোরাকাবা।

(Visited 672 times, 1 visits today)
Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *