গাউছুল আযম বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রঃ)-এর দোয়ার বরকতে এক ব্যক্তির ব্যবসা বা যানমালের হেফাজত আল্লাহ করেন

বাগদাদের বিখ্যাত ব্যবসায়ী আবুল মুজাফ্‌ফর এবনে হাসান, শেখ হাম্মাদের নিকট আরজ করল, ‘হুজুর, সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা করার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ীক পণ্য-দ্রব্যসহ কাফেলা প্রস্তুত করেছি আপনি দোয়া করুন, যাতে নিরাপদে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারি।’ এর প্রতি-উত্তরে শেখ হাম্মাদ (রঃ) বললেন, এই বছর তোমার জন্য এ সফর মঙ্গলজনক নয়, কেননা ভ্রমণকালে ডাকাত দল তোমাকে আক্রমণ করবে ও ধন-সম্পদ লুট করে নিয়ে যাবে এবং নিহত হইবা। আবুল মুজাফ্‌ফর একথা শুনে অত্যন্ত চিন্তিত, মর্মাহত হয়ে, অসহায়-নিরুপায় এবং নিরাশ অবস্থায় স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করতে থাকেন। পথিমধ্যে তার সাথে বড়পীর ছাহেব হযরত গাউছুল আযম আবদুল কাদের জিলানী (রঃ)-এর সাক্ষাৎ হলে, তাঁর কাছে এ অবস্থার কথা বর্ণনা করেন। ব্যবসায়ীর কথা শুনে হযরত গাউছুল আযম (রঃ) বললেন, তোমার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ কর। ইনশাআল্লাহ! তুমি নিরাপদেই বাণিজ্য- সম্ভার নিয়ে স্বদেশে ফিরে আসবে। হযরত বড়পীর ছাহেব (রঃ)-এর কথায় নিরাশ ব্যবসায়ী আবুল মুজাফ্ফর আশ্বস্ত হন এবং তার বাণিজ্যিক পণ্য-সম্ভার নিয়ে বিদেশে গমন করেন। তিনি শেষ পর্যন্ত ব্যবসায় বিপুল পরিমাণ লাভসহ দেশে ফিরবার পথে ছিলেন, এ অবস্থায় বিখ্যাত হাল্ব নগরে তিনি একদিন এক সহস্র স্বর্ণমুদ্রার একটি ঝুলি নিয়ে গমন করছিলেন, এমন সময় তার প্রস্রাব-পায়খানার বেগ হলে, তিনি স্বর্ণমুদ্রার ঝুলিটি গোপন এক স্থানে রেখে ঐ প্রয়োজনের তাগিদে গমন করেন। কিন্তু ফেরার সময় মনের ভুলে স্বর্ণমুদ্রার কথা পুরোপুরি ভুলে গেলেন। এরপর রাতে নিজের তাঁবুতে এসে যথারীতি ঘুমিয়ে পড়েন, তিনি ঘুমের মধ্যে এল্কা বা স্বপ্নে দেখেন যে, একটি ডাকাত দল তার সর্বস্ব লুট করছে এবং এক ডাকাত তাকে সুতীক্ষ্ম ছোরা দিয়ে হত্যা করেছে। এ অবস্থায় তিনি চিৎকার দিয়ে ওঠেন। তার নিদ্রা ভঙ্গ হয়। তিনি দেখেন তার গলদেশ শক্ত হয়েছে, আর তখনই ঐ স্বর্ণ মুদ্রার কথা স্মরণ হলো। তিনি দ্রুত সে স্থানে ফিরে আসেন এবং সম্পূর্ণ সংরক্ষিত অবস্থায় ঝুলিটি তার হাতে আসে। এরপর ঐ ব্যবসায়ী দ্রুতবেগে ভ্রমণ করে বাগদাদে উপস্থিত হন। তিনি প্রথমতঃ শেখ হাম্মাদ (রঃ)-এর খেদমতে হাজির হয়ে তাঁর নিকট কর্তৃজ্ঞতা প্রকাশের কথা চিন্তা করেন। পরক্ষণেই ভাবেন যে, হযরত গাউছুল আযম (রঃ)-এর নিকটই তার সর্বপ্রথম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। কেননা, তার দোয়ার বরকতেই তিনি নিরাপদে বহু বাণিজ্য- সম্ভার নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সৌভাগ্য লাভ করেছেন। কার নিকট সর্বপ্রথম যাবেন, এ সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে অবশেষে কারো নিকট গমন করলেন না। এ অবস্থায় কিছুদিন অতিবাহিত হল। একদিন ঘটনাক্রমে শেখ হাম্মাদ (রঃ)-এর সাথে ব্যবসায়ীর সাক্ষাৎ হলে, শেখ হাম্মাদ (রঃ) বললেন, আবুল মুজাফ্‌ফর তুমি অতি অকৃতজ্ঞ, হযরত গাউছুল আযম (রঃ)-এর দোয়ার বরকতে তুমি বিপদমুক্ত রয়েছো, অথচ এ পর্যন্ত তুমি তাঁর দরবারে গমন করে কৃতজ্ঞতা পর্যন্ত প্রকাশ করলে না! তুমি জান-মাল সর্বস্ব থেকে বঞ্চিত হতে, কিন্তু হযরত গাউছুল আযম (রঃ) তোমার জন্যে ৭০ বার প্রার্থনা করেছেন, আর তারই ফল স্বরূপ তোমার মহাবিপদ বাস্তবে না ঘটে স্বপ্নে ঘটেছে। আল্লাহর অসীম রহমতে তোমার জান-মাল রক্ষা পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: হযরত গাউছুল আযম (রঃ)এর অমর বাণী 

(Visited 76 times, 1 visits today)
Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *