খাজাবাবা কুতুববাগীর বার্তা

আত্ম শুদ্ধি দেল জিন্দা, নামাজে হুজুরি পয়দা করার জন্য কুতুববাগ দরবার শরীফে মোজ্জাদ্দেদীয়া ছামিয়ানার নিচে সামিল হইন । নবীজি হাদীস শরীফে ফরমান, “তলাবুল এলমি ফারিদাতুন আলা কুল্লি মুসলিমিনা-ওয়া-মুসুলিমাত” অর্থঃ প্রত্যেক নর-নারীর জন্য এলমে শিক্ষা করা ফরজ। এই এলম আবার দুই প্রকার: (ক) এলমে জাহের (খ) এলমে বাতেন। অর্থাৎঃ শরীয়তের এলম ও মারিফতের এলম। হযরত ঈমাম আযম আবু হানিফা (রঃ) তার কিতাবের মধ্যে উল্লেখ করেন, শরীয়তের এলেম দ্বারা জাহেরকে দুরস্থ করে, আর মারিফতের এলেম দ্বারা ভিতরকে পাক পবিত্র করে । এই মর্মে আল্লাহপাক পবিত্র কুরআন পাকে সূরা আ’লা (১৪) নং আয়াতে এরশাদ করেন “ক্বাদ আফলাহা মান তাযাক্কা, অজাকারাছমা রাব্বিহি ফাছাল্লা” অর্থঃ ঐ ব্যাক্তি সফল কাম যে ব্যাক্তি নিজের আত্মা পাক পবিত্র, দিল জিন্দা ও নামাযে হুজুরি পয়দা করতে পেরেছে । এই সম্পর্কে নবীজি বোখারি শরীফের বাংলা ১ম খন্ডে ৭১ পৃষ্ঠায় নোমান বিন বসির থেকে রেওয়াত, “আলা ইন্নাফিল জাছাদি, মুদ-গাদান ইজা ছালুহাল জাসাদু কুল্লুহু,অ’ইজা ফাসাদাত, ফাছাদাল জাসাদু কুল্লুহু আলা অয়হিয়াল ক্বালব্” । অর্থঃ প্রত্যেক মানবদেহের মধ্যে একটুকরা গোস্ত আছে, ঐ গোস্তের টুকরা যাহার পাক আছে, তাহার পুরা দেহ পাক, আর যাহার গোস্তের টুকরা পাক নাই তাহার পুর দেহটাই নাপাক । যাহা হাদিস শরীফে পাওয়া যায়,  “আল ক্বালবু হিয়া মুদ গাতুল লাহামে ফিহা বাতনুন ছাবায়াতুন বুতুনি” অর্থঃ ক্বালবের একটি গোস্তের টুকরা উহার সাতটি পেট আছে । এক একটি পেটের দূরত্ব ১০ হাজার পর্দা । ৭০ হাজার পর্দার মধ্যে মহান আল্লাহ বিরাজ করেন । সেই সাতটা পেটের বা মাকামের নাম – (ক) ছুদুর (খ) নশর (গ) শামছ্ (ঘ) নূরি (ঙ)কোরব (চ) মাকিম (ছ) নফস ।

সুতরাং, হে আল্লাহরবান্দাগণ, সেই ক্বালব জাগ্রত করিয়া আত্মা বা ক্বালবের মুখে আল্লাহর জিকির পয়দা করে, ক্বালবের সাতটা মাকামের দরজা খুলে প্রথম মাকাম সুদুর হইতে শয়াতানকে তাড়াইয়া সপ্তম মাকামে অর্থাৎ নফছের ঘরে আল্লাহতায়ালাকে সন্ধানের জন্য অবশ্যই একজন কামেল মুর্শিদের কাছে বাইয়াত তথা মুরিদ হইয়া এত্তেহাদি তাহাজ্জু হাছিল করিতে হইবে । একজন কামেল মুর্শিদের কাছে মুরিদ হওয়াকেই আল্লাহপাক কুরআন পাকে ঊছিলা শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন। যেমন আল্লাহতায়ালা বলেন “ইয়া আইয়্যুহ্যাল লাজিনা আমানুত্তাকুল্লা ওয়াবতাগু ইলাইহিল ওছিলাহ্” । অর্থঃ হে ঈমানদারগণ আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে পাওয়ার জন্য ঊছিলা তালাশ কর । বিভিন্ন তাফছিরে এই ঊছিলার কথা জামানার কামিল মোকাম্মেল হাদী শ্রেণীর অলী আওলিয়াগণকে বুঝানো হইয়াছে । তাই আল্লাহকে পাওয়ার জন্য একজন হাদী শ্রেণীর মুর্শিদের কাছে বাইয়াত তথা মুরিদ হইয়া কঠোর রিয়াজত ও সাধনা করিয়া আল্লাহর সন্ধান লাভ করুন । হাদী শ্রেণীর অলি আওলিয়াগণকে হেদায়তের দায়িত্ব দিয়া যুগে যুগে মানুষদেরকে সত্য পথের দিশা দেওয়ার জন্য আল্লাহতায়ালা দুনিয়াতে পাঠান । তাহারা দুনিয়াতে এসে সিরাতুল মুস্তাকিম এর সরল পথ দেখান, যেমন আল্লাহপাক সূরা ফাতেহাতে বলেন “ইহদিনাছ ছিরতাল মুস্তাকিম, সিরাতাল লাজিনা আন আমতা আলাইহিম” । অর্থঃ হে আল্লাহ আমাদিকে সোজা সরল পথ প্রদর্শন করুন , তাহাদের পথে যাহাদেরকে আপনি অনুগ্রহ দান করিয়াছেন। আর সেই সোজা পথ হল অলি আওলিয়াগণের পথ। সেই পথের দিশা দেওয়ার জন্যই বিশ্ববাসীকে আমন্ত্রন জানাই। পরিশেষে বিশ্ববাসীর সকল মানুষের জন্য আমার দোয়া ও আশির্বাদ রহিল।

 

(Visited 245 times, 2 visits today)
Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *