কিছু সংখ্যক আলেমের মনগড়া দশটি মতবাদ

ইসলাম ধর্মের শিংওয়ালা শত্রু

 

মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন

হিজরী দ্বাদশ শতকে আরবের নজদ নামক স্থানে মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব নজদীর উদ্ভব হয়। তিনি যে বাতিল মতবাদ প্রচার করে এটাকে ‘ওহাবী আন্দোলন’ নামে অভিহিত করেছেন এবং এ মতবাদের সমর্থকগণ ওহাবী নামেই পরিচিত। এদের ফেৎনা সম্পর্কে মেশকাত শরীফের ‘জিকরুল্লাহ আল ইয়ামন’ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, ‘এক সময় রাসুল (সঃ) এরশাদ করলেন, ‘আয় খোদা! আপনি শামদেশে বরকৎ দান করুন। আয় খোদা! আপনি আমাদের ইয়ামেন দেশে বরকৎ দান করুন।’ উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামের মধ্য হইতে কতকে আরজ করিলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাদের নজদের জন্যও দোয়া করুন।’ কিন্তু রাসুল (সঃ) এবারও শাম ও ইয়ামেনের জন্য দোয়া করলেন। পুনরায় নজদের জন্য দোয়ার আবেদন করা হইলো। হাদিস বর্ণনাকারী হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসুল (সঃ) তৃতীয়বার এরশাদ করলেন, ‘সেখান হইতে তো বহু ফেৎনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি হইবে এবং শয়তানের দল বাহির হইবে।’ (বোখারী শরীফ)

আমার বক্তব্য হলো তারাও আল্লাহকে ভয় করেন, কিন্তু রাসুল (সঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব মানতে পারেন না! তারা তো জানেন যে, রাসুল (সঃ) কে সৃষ্টি না করলে আল্লাহতায়ালা পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না। যিনি কুলকায়েনাতের রাহমাতুল্লিল আলামিন সেই প্রিয় রাসুল (সঃ) কে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ মনে করার যুক্তি তারা কোথায় পান?‘আবুদাউদ শরীফে শরাহ বজলুল মজহুদ’ কিতাবের প্রণেতা হযরত মাওলানা খলীল আহমদ আম্বিটবী, তাঁর কিতাবে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে লিখেছেন, ‘আমাদের নিকট ওহাবী ফেক্‌রার হুকুম উহাই যাহা আল্লামা শামী বর্ণনা করিয়াছেন। তাহারা একটি অত্যাচারী খারেজী দল। ইহারা অন্যায়ভাবে মক্কা শরীফের ইমামের ওপর হামলা করিয়াছিল। ইসলামের এমন এক ব্যাখ্যা বাহির করিয়াছিল, যাহার দরুন তাহারা ইমামকে কতল করা ওয়াজেব মনে করিত। এবং উক্ত ব্যাখ্যার অনুবর্তী হইয়া আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের লোকদের জানমাল হালাল মনে করিত। এবং তাহাদের স্ত্রীলোকদিগকে বাদী বানাইত। সেহেতু মওদুদী জামায়াতের স্বরুপ প্রকাশনায় দারুল এশায়েত ছারছিনা, প্রকাশকাল সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ সাল, পৃষ্ঠা নং ২৫।’ মাওলানা খলীল আহমদ সাহেবের জওয়াবের সমর্থনে নিন্মলিখিত ওলামায়ে কেরাম দস্তখত করিয়াছেন শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান সাহেব দেওবন্দ, মাওলানা আশরাফ আলী থানবী সাহেব, মাওলানা সৈয়দ আহমদ হাসান আসরারী সাহেব, মাওলানা আজীজুর রহমান দেওবন্দী সাহেব এবং মাওলানা হাবীবুর রহমান দেওবন্দী সাহেব। ওহাবী ফেক্‌রা গোমরাহী সম্পর্কে উপরের উদ্ধৃতিগুলো যথেষ্ট। এ ছাড়াও যেখানে দয়াল নবী (সঃ) নিজেই তাদের ব্যাপারে এমন ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতবাণী করেছেন, তারপরও তাদের মিথ্যা ও মনগড়া মতবাদ শান্তিকামী মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ছাড়া আর কী হতে পারে? ওহাবী মতবাদের ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিস থেকে কিছু আলোচনা করছি।

প্রথম ভুল মতবাদের আকিদা হচ্ছে, ‘পীরের উছিলা’ ধরা শিরক। অথচ পবিত্র কোরআনে সুরা মায়িদার পঁয়ত্রিশ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুত্তাকুল্লাহ্ অবতাগু ইলাইহিল উছিলাহ।’ অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহতায়ালাকে ভয় কর। এবং তাঁকে পাওয়ার জন্য উছিলা (মাধ্যম) অন্বেষণ কর। যেখানে উছিলা ধরার জন্য আদেশ করেছেন, সেখানে তারা বিরোধীতা করে মূলত: আল্লাহর হুকুমকে অমান্য করছেন, আর আল্লাহর হুকুম অমান্যকারী নি:সন্দেহে জাহান্নামী। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আত্মার আলো পত্রিকায় খাজাবাবা কুতুববাগী কেবলাজানের লিখিত ‘পবিত্র কোরআনের আলোকে উছিলা অন্বেষণ করা প্রত্যেক নর-নারীর জন্য অপরিহার্য্য।

দ্বিতীয় মতবাদ হচ্ছে, ‘অলিআল্লাহর নিকট রূহানী সাহায্য প্রার্থনা করা শিরক। এরা মূলত: মুহাম্মদী ইসলাম তথা অলিআল্লাহর কাছ থেকে মানুষকে দূরে রাখার জন্য এটি তাদের শয়তানী ফন্দি। যেখানে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) রাসুল (সঃ) এর তাওয়াজ্জহ্ ব্যতিত পূর্ণ মুমিন হতে পারেননি, সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে অলিআউলিয়ার তাওয়াজ্জহ্ ব্যতিত পূর্ণ মুমিন হবো?

তাদের অন্য একটি বাতিল মতবাদ হলো আউলিয়া কেরামের মাজার জিয়ারত শিরক।’ এ মতবাদের দ্বারা তারা মূলত: অলি-আউলিয়াগণের রূহানী তাওয়াজ্জহ্ থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে রাখতে চেষ্টা করেন। অথচ পীরকামেলের তাওয়াজ্জুহ পেলে মানুষের অন্তর পবিত্র হয়, মহান আল্লাহ ও রাসুল (সঃ) এর প্রতি মন আকৃষ্ট হয়, নামাজে একাগ্রতা আসে। আউলিয়াকেরাম ও বুর্জুগাণে দ্বীনের মাজার জিয়ারত ও রাসুল (সঃ) এর রওজা মোবারক জিয়ারতের নিয়তে দূর দেশ থেকে সফর করে যাওয়া জায়েজ এবং বিশেষ সওয়াবের কাজ। শামী গ্রন্থের প্রথম খন্ডে ‘জিয়ারতে কবুর’ অধ্যায়ে লিখিত আছে, ‘আল্লাহর নৈকট্যলাভের ব্যাপারে আউলিয়াকেরামের পদ মর্যাদায় তারতম্য আছে। এবং তাদের মারেফতে এলাহী ও তত্বজ্ঞানের তারতম্য হিসেবে জিয়ারতকারীগণ উপকৃত হয়ে থাকেন।

ওহাবীদের আরেকটি ভুল মতবাদ হচ্ছে, অলিআউলিয়া কিংবা ইন্তেকালপ্রাপ্ত অন্য লোকের রূহের প্রতি ইছালে সওয়াব বা ফাতেহাখানির আয়োজন করা নাজায়েজ। এ সম্পর্কে আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘ইয়া আইয়ুহাল্লাযিনা আ-মানু ইয়া-না-যাইতুমুর রাসুলা ফাকাদ্দিমু বাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকাতাং।’ অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা রাসুলের সঙ্গে চুপি চুপি কথা বলতে চাইলে, নজর প্রদান করবে’ (সুরা, মুজাদিলা। আয়াত- ১২)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘খোলাছাতুত্তাফছিরে’ আছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত এ আয়াতে নির্দেশ অনুযায়ি যখন কোন ব্যক্তি হুজুর (সঃ) এর দরবারে উপস্থিত হতেন, তখন আগত ব্যক্তি হুজুর (সঃ)কে নজরানা প্রদান করতেন। সচেতন পাঠকের কাছেই প্রশ্ন, আপনারাই বিচার বিশ্লেষণ করে দেখবেন যে, যারা আল্লাহর কোরআন ও রাসুল (সঃ) এর হাদিসকে অস্বীকার করে, তারা কি মুসলমান হতে পারেন? কারণ, আল্লাহ বলেছেন, যারা কোরআনের একটি হরফ বা অক্ষরকে অস্বীকার করবে তারা জাহান্নামী।

(Visited 103 times, 2 visits today)
Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *