কামেল পীর-মুর্শিদকে বাবা বলার অকাট্য দলিল

আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ জাকির শাহ্ নকশ্‌বন্দি মোজাদ্দেদি

বাবা শব্দের অর্থ হলো জনক, পিতার মত আশ্রয়স্থল, পুত্র বা পুত্র সমতুল্য (পুত্র স্থানীয়কে আদরে ও স্নেহ সম্বোধনে) ব্যবহৃত শব্দ, কামেল পীর-মুর্শিদ, সুফি, সাধু-সন্ন্যসী এবং দেবতার প্রতি সম্মান সূচক উপাধি, বাবাজান অধিকতর শক্তিশালী সম্ভ্রমপূর্ণ উক্তি, এছাড়াও আঞ্চলিক ভাষাগত পার্থক্যের কারণে বিভিন্নভাবে বলা হয় যেমন, বাবুজী, বাবাজী, আব্বা, আব্বাজান, আব্বাহুজুর ইত্যাদি বলা হয়। বাবা বলা যায় এমন শব্দগুলো হচ্ছে ধর্ম জীবনের উপদেষ্টা, সাধক পন্থার নির্দেশক, শিক্ষক বা ওস্তাদ, সম্মানে বা বয়সে মুরব্বী, মাননীয় ব্যক্তি, দায়িত্ব-সম্পন্ন ব্যক্তি, মহান ব্যক্তি এবং গুরুর তুল্য মান্য ব্যক্তিকে বাবা বলা হয়।

আভিধানিক অর্থে :

A male who sires (and often raises) a child.

A male donator of sperm which resulted in conception.

A term of address for an elderly man.

A person who playes the role of a father in same way.

The founder of a discipline.

পবিত্র কোরআন শরীফে সূরা হাজ্জ ৭৮ নং আয়াতে আল্লাহতা’আলা বলেন, অ জ্বা-হিদূ ফিল্লা-হি হাক্ব্ ক্ব জ্বিহা-দিহ্; হুওযাজ্ব্ তাবা-কুম্ অমা-জ্বা’আলা আলাইকুম্ ফিদ্দীনি মিন্ হারজ্ব; মিল্লাতা আবীকুম্ ইব্র-হীম; হুওয়া ছাম্মা-ক্বু মুল্ মুস্‌লিমীনা মিন্ ক্ববলু অফী হাযা-লিয়াকূনার্‌ রসূলু শাহীদান্ ‘আলাইকুম্ অ তাকূনূ শুহাদা-য়া ‘আলান্ না-সি ফাআক্বীমুছ্ ছলা-তা অ আ-তুয যাকা-তা ওয়া’তাছিমূ বিল্লা-হ্; হুওয়া মাওলা-কুম্ ফানি’মাল্ মাওলা-অনি’মান্নাছীর্‌

অর্থ: তোমরা আল্লাহর জন্য শ্রম স্বীকার কর, যেভাবে শ্রম স্বীকার করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি। তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কোরআনেও, যাতে রসুল তোমাদের জন্য সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবম-লির জন্যে। সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।

সূরা আহযাবে, পারা ২২ আয়াত ৬ আল্লাহতা’আলা আরও বলেন, আন্নাবিয়্যু আওলা বিল্‌মু’মিনীনা মিন্ আনফুসিহিম  অআয্ওয়া-জ্বুহু উম্মাহা-তুহুম্ ।

অর্থ: নবী (সাঃ) মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা।
দেখা যায় যে মানুষ সৃষ্টি এবং জন্মের শুরু থেকে পিতা-পুত্রের সম্পর্ক জন্ম-সুতায় গাঁথা। পারিবারিক জীবনে জন্মদাতা বাবা তার ছেলেকে আদর করে বাবা বলে ডাকেন। আবার ছেলেও বাবাকে, বাবা বলে ডাকেন। তাহলে, এখানে কে কার বাবা? এর মধ্যে পার্থক্য কী? বুঝতে হবে, কাউকে কোনো সম্বোধন বা কারো সঙ্গে কোনো সম্পর্ক শুধু রক্ত সম্পর্কের মাধ্যমেই হয় না। ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদীর সময় উভয় পক্ষ থেকে একজন উকিল থাকেন, যার মাধ্যমে বিয়ের শুভকাজ সম্পন্ন করা হয়, তাকে আমরা উকিল বাবা ডাকি। আবার শ্বশুরকে বাবা বলি। ছোট ছেলে-মেয়েকে আদর করে বাবা বলি। পথে-ঘাটে চলতে-ফিরতে গিয়ে রিক্সা চালক ও অন্যান্য গাড়ি চালকসহ অনেককেই বাবা সম্বোধন করা হয়। আবার মুরব্বিদেরকেও কেউ কেউ আদব বা সম্মানার্থে বাবা বলে সম্বোধন করি। বয়সে একটু বড় হলে তাকেও সম্মানার্থে অনেক সময় বাবা বলি। আসলে বাবা ডাকের মধ্যে আলাদা আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়। যেমন মায়ের ক্ষেত্রেও তাই। আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)কে বাবা বলি, মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)কে বাবা বলি। এঁদের মধ্যে শুধু একজন হলেন জন্মতাদা বাবা এবং বাকিরা হলেন সম্বোধনমূলক। ফলে তরিকতের ভাষায়ও কামেল মুর্শিদ রূহানী (আত্মার) পিতা। তাই আমরা নিজ নিজ পীর-মুর্শিদকে খাজাবাবা বলে ডেকে তাঁর প্রতি ভালোবাসা-শ্রদ্ধা- সম্মান প্রদর্শন করি।

(Visited 368 times, 1 visits today)
Share