আশেক ও জাকেরানদের প্রতি আমার নসিহত অবশ্যই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সাথে অজিফা আমল করিতে হইবে

আলহাজ মাওলানা হযরত সৈয়দ জাকির শাহ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী

প্রথমে পাক কালাম ফাতেহা শরীফ : ফজর নামাজবাদ, আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহসহ তওবা ইস্তেগফার ৭ বার পাঠ করিবেন। উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বী মিন কুল্লি জামবিউ ওয়া’তুবু ইলাইহি’। এরপর বিসমিল্লাহর সহিত সূরা ফাতেহা তিন (৩) বার পাঠ করিবেন। উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লা-হি রাব্বিল আলামিন। র্আ রাহমানির রাহীম। মা-লিকি ইয়াঁওমিদ দীন। ইয়্যা কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা কা নাস্তাঈন। ইহ্ দিনাছ ছিরাত্বল মুস্তাকিম। ছিরাত্বল লাযীনা আন আমতা আলাইহীম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহীম ওয়ালাদ্ দ্বয়াল্লিন। আমিন। এরপর বিসমিল্লাহ সহিত সূরা ইখলাছ দশ (১০) বার পাঠ করিবেন। উচ্চারণ : কুলহু ওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লা হুস্ ছামাদ্। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউ লাদ্। ওয়ালাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ। এরপর দরূদ শরীফ ১১বার পাঠ করিবেন। উচ্চারণ: আল্লাহুমা ছাল্লি-আলা সায়্যিদিনা মোহাম্মাদীউঁ উছিলাতি ইলাইকা ওয়া আ-লিহী ওয়া সাল্লিম।

খতম শরীফের গুরুত্ব : বর্তমান সময় অত্যাধুনিক যুগ, স্যাটেলাইটের যুগ, মিডিয়ার যুগ, ইন্টারনেট, ফেইসবুকের যুগ, কম্পিউটারের যুগ। এই সময়ে ঈমান আখলাক ঠিক রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি আপনারা বেদাতী কাজ ও বিষাক্ত সাপের ছোবল হইতে ঈমান বাঁচাইতে চান, তাহলে আমার দেওয়া অজিফা খতম শরীফের আমল মনে-প্রাণে বিশ্বাস করিয়া আদায় করুন। মহান আল্লাহতায়ালা আপনাদের ঈমান রক্ষা করিবেন। খতম শরীফ আমলের মাধ্যমে পরিত্রাণ পাবেন।

খতম শরীফ পড়ার নিয়ম : প্রথমে দরূদ শরীফ ১০০ বার পাঠ করিবেন। উচ্চারণ: আল্লাহুমা ছাল্লি-আলা সায়্যিদিনা মোহাম্মাদীউঁ উছিলাতি ইলাইকা ওয়া আ-লিহী ওয়া সাল্লিম। এরপর পাঠ করিবেন ‘লা হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্’ পাঁচশত (৫০০) বার। এরপর পুন:রায় দরূদ শরীফ একশত (১০০) বার পাঠ করিবেন। উচ্চারণ: আল্লাহুমা ছাল্লি-আলা সায়্যিদিনা মোহাম্মাদীউঁ উছিলাতি ইলাইকা ওয়া আ-লিহী ওয়া সাল্লিম।

খতম শরীফ-এর পর মোজাদ্দেদ সাহেবের শান গাইবেন।
উচ্চারণ :
মোজাদ্দেদ আল ফেসানী মান,
মোজাদ্দেদ আল ফেসানী মান।
দেলো জানাম বাসও কেতু,
বহরদম যারে মিনালেদ
নামা আতাল, আতে জিবা
মোজাদ্দেদ আল ফেসানী মান ॥
গোলামে তু শুদাম আজ্জান
মুরীদেতু শুদাম আজদেল
শুয়াদ বর, পায়েতু কুরবা
মোজাদ্দেদ আল ফেসানী মান।
বমিছকিনাম ধরে গা- হাদ’
চু ফরমায়ে নযর বারে,
বহা লম হাম, নযর ফরমা,
কে খাকে পা য়ে মিছ কিনাম
মোজাদ্দেদ আল ফেসানী মান ॥

জোহর নামাজ : ফরজ ও সুন্নাত নামাজের পর নিম্মলিখিত নিয়মে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়িবেন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা ইখলাছ পাঠ করিবেন। যাহাদের সূরা কাফিরুন জানা নাই বা মনে নাই, তারা উভয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর, সূরা ইখলাছ দিয়ে নামাজ আদায় করিবেন।

আছর নামাজ : আছর নামাজের পরে ‘তসবীহ্ ফাতেমী’ আমল করিবেন। অর্থাৎ, সুবাহানাল্লাহ তেত্রিশ (৩৩) বার, আলহামদুলিল্লাহ তেত্রিশ (৩৩) বার এবং আল্লাহু আকবার চৌত্রিশ (৩৪) বার পাঠ করিবেন।

মাগরিব নামাজ : ফরজ ও সুন্নাত নামাজের পর দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করিবেন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা ইখলাছ পাঠ করিবেন। যাহাদের সূরা কাফিরুন জানা নাই বা মনে নাই, তারা উভয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা ইখলাছ দিয়ে নামাজ আদায় করে পাক-কালাম ‘ফাতেহা শরীফ’ পাঠ করিবেন। এরপর ছওয়াব রেছানী করিবেন।

এশার নামাজ : ফরজ ও সুন্নাত নামাজের পর দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করিবেন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর, সূরা ইখলাছ পাঠ করিবেন। যাহাদের সূরা কাফিরুন জানা নাই বা মনে নাই, তারা উভয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা ইখলাছ দিয়ে নামাজ আদায় করিবেন এবং মোনাজাত করিবেন। বেতের নামাজের পর পাঁচশত (৫০০) বার দরূদ শরীফ, উচ্চারণ: আল্লাহুমা ছাল্লি-আলা সায়্যিদিনা মোহাম্মাদীউঁ উছিলাতি ইলাইকা ওয়া আ-লিহী ওয়া সাল্লিম। পড়িয়া নবীজিকে নজরানা দিয়ে বিছানায় পিঠ দিবেন।

রহমতের ডাক : রাত্রের শেষ ভাগে (তৃতীয় প্রহর) উঠিয়া পবিত্র বিছানায় বসিয়া রহমতের ডাক দিবেন, ইয়া আল্লাহু, ইয়া রাহমানু, ইয়া রাহীম। এই তিন নাম ধরিয়া মহান রাব্বুল আলামিনকে ডাকিবেন এবং চোখের পানি ছাড়িয়া গুনাহ্ মাফের জন্য কান্নাকাটি করিবেন। মাঝে মাঝে ইয়া রাহ্মাতাল্লিল আলামিন বলিয়া দয়াল নবীজিকে ডাকিবেন। এরপর কিছুক্ষণ আল্লাহর ইসমে জাত আল্লাহ, আল্লাহ, আল্লাহ জিকির করিবেন।

(Visited 228 times, 1 visits today)
Share