সুফিবাদই হলো নিজেকে চেনার একমাত্র পথ

মোঃ ইসহাক আহমেদ ইমন

সুফি শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে অনেকের অনেক মতভেদ রয়েছে, কেউ কেউ বলেন, সুফি শব্দটি ‘সাউফ’ শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। আবার কারো মতে ‘সাফা’ শব্দ থেকে সুফি শব্দটি এসেছে বা ‘আসহাবে সুফ্ফা’ শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। ‘সাউফ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল পশম। ওই সময়ে এক শ্রেণীর আধ্যাত্মিক সাধকগণ অতি সাধারণ এক ধরণের পশমের তৈরি পোশাক ব্যবহার করতেন। কিন্তু তাঁরা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে আত্মিক উন্নতির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক আত্মার বা পবিত্র আত্মার অধিকারী হয়েছেন বলে, ‘সুফ’ শব্দ থেকেই সুফি শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। আবার কারো মতে ‘আহলে সুফ্ফা’ (বারান্দার অধিবাসী) অর্থাৎ, দয়াল নবীজীর একদল সাহাবা ছিলেন, যাঁরা মসজিদে নববীর বারান্দায় সর্বক্ষণ ধ্যান-মোরাকাবা, মোশাহেদা, আত্ম পর্যালোচনা, জিকির আজকারে নিমগ্ন থাকতেন বলে ‘আহলে সুফ্ফা’ শব্দ থেকে সুফি শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে। আবার কারো মতে সুফি শব্দটি ‘সাফা’ শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে, যার অর্থ হল পবিত্রতা। আর অপরদিকে সুফিবাদ বা সুফি দর্শন ইসলামের একটি মৌলিক আত্ম দর্শন। আত্মা নিয়ে আলোচনা করা এর মূখ্য বিষয়। আত্মার পরিশুদ্ধিতার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করাই হলো এই দর্শনের মূল লক্ষ্য। আল্লাহকে জানা, চেনা ও রসুল (সঃ) এর দিদার লাভে, স্রষ্টা এবং সৃষ্টির মধ্যেকার সম্পর্ক, আধ্যাত্মিক ধ্যান-জ্ঞানের মাধ্যমে বুঝার চেষ্টাকে সুফিবাদ বা সুফি দর্শন বলে।

সুফিবাদ, অবিনশ্বর আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির জ্ঞানকে বুঝায়। এই জ্ঞানকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে, প্রথমে বেশ কিছু ধাপ অতিক্রম হতে হবে। যেমন ১) ‘ফানাফিল অযুত’ নিজের ভিতর নিজেকে বিলিন করে দেওয়া (২) ‘ফানাফিস শায়েখ’ নিজের মুর্শিদের দিলের সঙ্গে মিশে যাওয়া। ৩) ‘ফানাফির রসুল’ রসুল (সঃ) এর দিদারে মিশে যাওয়া। ৪) ‘ফানাফিল্লাহ’ পরিশুদ্ধ আত্মার মাধ্যমে মহান আল্লাহর দর্শন লাভ করা। ৫) ‘বাকা বিল্লাহ’ যা আল্লাহর সঙ্গে স্থায়ীভাবে মিশে যাওয়া বা অবস্থান করা। যিনি এই সাধনার পথ বেছে নিয়েছন বা আয়ত্ত করেছেন, তিনিই হলেন সুফি। সুফি দর্শন গবেষণাকারী বা অনুসারীরা সার্বক্ষণিক আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞানে দন্ডায়মান হয়ে থাকেন। আর যখন তিনি কোন কিছু বলেন বা করেন, তা আল্লাহর নির্দেশেই বলেন এবং করে থাকেন। ইসলামী পরিভাষা অনুযায়ী সুফিবাদকে ইলমে তাসাওউফ বলা হয়। যার অর্থ আধ্যাত্মিক জ্ঞান, আল্লাহ প্রেমী, রসুল (সঃ) এর অনুসারী, শরীয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফত সম্মিলিত ধর্ম জ্ঞানী।

শরীরে এমন একটি গোস্তের টুকরা আছে যার নাম ক্বলব বা হৃদপিন্ড। এই ক্বলব-হৃদপিন্ড পবিত্র হলে সমস্ত শরীর পবিত্র হয়। আমাদের যেমন জাগতিক ক্ষুধা আছে, ঠিক তেমনি সেই ‘ক্বলব’ নামক হৃদপিন্ডেরও ক্ষুধা আছে। আমরা ক্ষুধা পেলে যেমন খাবার খাই, ঠিক তেমনি ওই গোস্তের টুকরাকেও খাবার দিতে হয়, তার খাদ্য আল্লাহতা’লার জিকির ও সরণ। এই জিকিরের মাধ্যমেই ক্বলব-হৃদপি- সতেজ থাকে সব সময়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে মিশতে হলে, তাঁকে জানতে হলে, তাঁর ভেদ বুঝতে হলে, একজন কামেল মুর্শিদের সহবত-সান্নিধ্য লাভ করতে হবে। কারণ, একমাত্র কামেল মুর্শিদ-ই পারেন, মানুষের সঙ্গে মহান আল্লাহরতা’লার জ্যোর্তিময় পথ তৈরি করে দিতে। মহানবী (সঃ) তাঁর অনুসারীদেরকে চারটি বিষয়ে শিক্ষা দিতেন, এক’ ইলমে শরিয়ত, দুই’ ইলমে তরিকত, তিন’ ইলমে হাকিকত এবং চার’ ইলমে মারেফত। এই চারটি বিষয়ের সমন্বয়ে হলো পরিপূর্ণ ইসলাম।

একজন কামেল পীর-মুর্শিদ বিরামহীন সাধনার মাধ্যমে, এই চারটি বিষয়ের বিশেষ জ্ঞান অর্জন করে সুফি হতে পারেন। তাই তো আমার ইহকাল ও পরকালের বান্ধব, নায়েবে নবী, দয়াল দরদী পীর দস্তগীর, রওশন জামিল, আরেফে কামেল, মুর্শিদে মোকাম্মেল কুতুববাগী ক্বেবলাজান হুজুর, রসুল (সঃ)এর এই চারটি বিষয়ের শিক্ষাকে কেন্দ্র করেই, রসুল (সঃ)এর সত্য তরিকার সুমহান বাণী প্রচার করছেন। তাই সম্মানীত ভাই-বোনদের আহ্বান করছি, কুতুববাগ দরবার শরীফে একবার আসুন। আমার দরদী মুর্শিদ কুতুববাগী ক্বেবলাজান হুজুরের নূরাণী সান্নিধ্য পেতে হলে, দয়াল নবীর তরিকা গ্রহণ করে সুফিবাদের সুশীতল ছায়া তলে বসুন। তাঁর দেয়া অজিফা আমল সঠিকভাবে নিয়মিত চর্চা করে সত্যিকারে একজন সুশিক্ষিত কামেলে ইনসান অথাৎ, মমিন বান্দা হওয়া যায়। তাই নিজেকে সংযমি, ন্যায়বান, আল্লাহ ভীরু ও রসুল (সঃ)এর প্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলে, নকশ্‌বন্দিয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকার অমৃত স্বাদ অনুভব করুন।

Sufism is the only way to know thy self

অর্থাৎ, সুফিবাদই হলো নিজেকে চেনার একমাত্র পথ।

(Visited 1,248 times, 1 visits today)
Share