বাবাজানের কাছে আসলে ঈমানী শক্তি বেড়ে যায়

মোঃ নুরুল আমিন বাবু

বাবাজানের কাছে এলে ঈমানী শক্তি বেড়ে যায়, রসুল (সঃ)-এর প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হয় এবং শুধু এক আল্লাহর প্রতি মূখাপেক্ষী করে তোলে। দেখতে দেখতে প্রায় ছয় বছর হয়ে গেলো বাবাজানের সান্নিধ্য লাভ করেছি। বাবাজানের কাছে নিয়মিত আসা-যাওয়া করি। বাবাজানকে দেখলে রসুল (সঃ)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা জাগ্রত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব হয়, অন্তরে আল্লাহর স্মরণ বেড়ে যায়। আমার দুর্বল মন স্ব-বল হয়ে ওঠে। বাবাজানের কাছে বাইয়্যাত গ্রহণ করার পর অজিফা আমল নিয়মিত পালন করছি। এই অজিফা আমল হলো ফজর নামাজের পর ফাতেহা শরীফ পাঠ এবং খতম শরীফের আমল। জোহর নামাজের পর দুই রাকাত নফল শরীফ, আসর নামাজের পর তসবিহ ফাতেমী, মাগরিব নামাজের পর দুই রাকাত নফল শরীফ ও ফাতেহা শরীফ পাঠ করা। এশার নামাজের পর দুই রাকাত নফল শরীফ ও রসুল (সঃ)-এর প্রতি পাঁচশত বার দরূদ শরীফ পড়ে নজরানা পেশ করা। এই আমলগুলোর সঙ্গে বাবাজান এর শিখানো আরও কিছু আমল করে থাকি। এর মধ্যে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় হলেও ধ্যান-মোরাকাবা করা। বাবাজান আরেকটি শিক্ষা হলো, প্রতি নি:শ্বাসে আল্লাহর জিকির করা। প্রতি রাতের শেষ ভাগে উঠে আল্লাহর তিন নাম ধরে ডেকে রহমত পালন শিক্ষা দিচ্ছেন। এই তিন নাম হলো ইয়া আল্লাহু! ইয়া রাহমানু! ইয়া রাহিম! মাঝে মাঝে ইয়া রহমাতাল্লিল আলামিন’ বলে ডাকতে। আমি প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবার-ই দরবার শরীফে বাবাজানের সাথে রহমত পালন করে থাকি। বাবাজানের বড় কেরামত হলো, মানুষকে আল্লাহ ও রসুল (সঃ)-এর মূখী করা।

বাবাজানের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা : আমাদের এলাকা শেওড়াপাড়ার পরিচিত এক ভাই বললো, ‘বাবু ভাই, আমাকে আজকে বাবাজান এর কাছে নিয়ে যাবেন? বাইয়াত গ্রহণ করব এবং মনের কিছু কথা তাঁকে বলবো। ওইদিন ছিলো বৃহস্পতিবার, আমি বললাম ঠিক আছে নিয়ে যাব। তার নাম হুসেন,। বিকাল থেকে অপেক্ষায় আছেন দরবারে আসার জন্য। আমার সাইনাসের সমস্যা আছে, এ কারণে ধূলোবালির মধ্যে মাস্ক ব্যবহার করে চলতে হয়। আগের দিন বুধবার ঢাকার বাহিরে গিয়েছিলাম, ওই সময় মাস্ক ব্যবহার করিনি। শীতকাল, ধূলোবালি বেশি উড়ে।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই নাকের সমস্যাটা বেড়ে গেলো। এদিকে হুসেন ভাইকেও কথা দিয়েছি, সে অপেক্ষা করছে। যা হোক, হুসেন ভাইকে রাত আটটার দিকে বললাম, ভাই আজ যেতে পারছি না, আপনাকে পড়ে কোন এক দিন নিয়ে যাব। বাবার প্রতি হুসেন ভাইয়ের ভক্তি, শ্রদ্ধা দেখে আমার ভালো লাগলো। কিন্তু তাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় রেখে দরবারে নিয়ে আসতে না পারায় খুব খারাপ লাগলো। রাতে ঘুমোতে গেলাম, স্বপ্নে দেখি, আমি দরবারে, বাবাজান আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, নাকে সমস্যা হচ্ছে কেন? এবং এর জন্য কিছু উপদেশ দিলেন, এমন সময় দেখি হুসেন ভাই আমার পিছনে দাঁড়ানো। ঘুম ভাঙ্গার পর চিন্তা করতে লাগলাম হুসেন ভাইয়ের কথা। সিদ্ধান্ত নিলাম হুসেন ভাইকে অবশ্যই আগামী বৃহস্পতিবার দরবার শরীফে নিয়ে যাবো। কিন্তু বৃহস্পতিবারের আগেই হুসেন ভাই মারা গেলেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমার মন ভিষণ খারাপ হয়ে গেল। বাবাজান আল্লাহর অলি-বন্ধু, তাঁর জাবানে শুনেছি, আল্লাহ বলেন, বান্দা যখন আমার হয়ে যায়, আমি তখন বান্দার হয়ে যাই। আমি যে চোখ দিয়ে দেখি, তখন বান্দাও সে চোখ দিয়ে দেখে। আমি যে কান দিয়ে শুনি বান্দাও সে কান দিয়ে শুনতে পায়। এর দ্বারা প্রতিয়মান হয়, সেদিন বাবাজানের কাছে হুসেন ভাইয়ের আসার অভিব্যক্তি এবং আমার অসুস্থতা বাবাজানের আধ্যাত্মিক চোখ দিয়ে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাই তো বলি খাজাবাবা কুতুববাগী কেবলাজান আল্লাহতায়ালার সুমনোনীত অতিপ্রিয় অলি-বন্ধু। তাঁকে মেনে নেওয়া মানেই রসুল (সঃ)-এর আহলে বাইয়াত মেনে নেওয়া এবং আল্লাহর অস্তিত্বকে স্বীকার করা। আর মেনে নিতে পারলেই কেবল এ জগতে শান্তি আর পরকালে মুক্তির পথ নিশ্চিত করা।

(Visited 40 times, 1 visits today)
Share