আল্লাহতা’লা কোরআন মজিদে তাঁর বন্ধু অলি-আউলিয়াদের ব্যাপারে সাধারণ মানুষদেরকে সতর্ক করেন

আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ হযরত জাকির শাহ্ নকশ্‌বন্দি মোজাদ্দেদি

আলা ইন্না আওলিয়া আল্লা-হি লা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহ্‌য্বানূন। আল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া কা-নূ ইয়াত্তাকূন। লাহুমুল্ বুশ্‌রা-ফিল্ হায়া-তিদ্ দুন্ইয়া ওয়াফিল্ আ-খিরাতি; লা-তাব্‌দিলা লিকালিমা-তিল্ লা-হি; যা-লিকা হুওয়াল্ ফাওযুল  ‘আজীম। (সূরা ইউনুস, আয়াত, ৬২-৬৪)

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতা’লা সবাইকে সর্তক করে বলেন, সর্তক হও! জেনে রাখো, আল্লাহর বন্ধু অলি-আউলিয়াদের কোন ভয় নেই এবং তাঁরা চিন্তাযুক্তও হন না। যাঁরা বিশ্বাস করেন এবং সাবধানতা অবলম্বন করেন, তাঁদের জন্য ইহকাল ও পরকালের জীবনে সুসংবাদ আছে, আল্লাহর বাণীর কোন পরিবর্তন নেই, এটিই মহা সাফল্য।

অ-লাক্বদ কাতাবনা-ফিয্যাবূরি মীম বা’দিয্ যিকরি আন্নাল আরদ্বা ইয়ারিছূহা-ইবা-দিয়াছ্ ছলিহুন। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত : ১০৫)

অর্থ: (প্রিয় হাবীব সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ’ আপনার মহব্বতে আমার মাহাবুব বান্দাদেরকে পৃথিবীর স্বত্ত্বাধিকারী করে তা, আমার লওহে মাহফুজে লিখে রেখেছি।

ওয়ামাই ইউত্বি‘ইল্লা-হা ওয়ার রাসূলা ফাউলাইকা মা’আল্লাযীনা আন’আমাল্লা-হু আলাইহিম মিনান নবিয়্যীনা ওয়াছ্‌ছিদ্দীকিনা  ওয়াশশুহাদাই ওয়াছ্ ছালিহীনা, ওয়া হাসুনা উলা-ইকা রাফীক্বা। (সূরা নিসা, আয়াত: ৬৯)

অর্থ: সত্যবাদী, শহীদ ও সিদ্দীকগণ আল্লাহ ও রসুল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আশেক। তাঁরা বেহেশতে নবী সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গী হবেন, তাঁরা কতই না সুন্দর।হযরত আলী (রা.) ইরশাদ করেন যে, আমার অন্তরে ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, মাতা-পিতা এমনকি শীতল পানি অপেক্ষাও মহানবী সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা অধিক প্রিয় (হাদিস : মাদারেজুন নবুয়্যত)। নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো মৃত্যু নেই, বরং তাঁরা স্থানান্তরিত হয়, ধ্বংসশীল ইহজগৎ থেকে স্থায়ী পরজগতে (আল হাদিস)। নিশ্চয়ই আমার বন্ধুগণ আমার জুব্বার অন্তরালে অবস্থান করেন। আমি এবং আমার আউলিয়াগণ ব্যতীত তাদের পরিচিতি সম্বন্ধে কেউ অবগত নয় (আল হাদিস)।

কেরামাতুন আউলিয়াউন হাক্কুন।
অর্থ: আউলিয়াদের কেরামত ক্ষমতা সত্য (আল হাদিস)।

আল আউলিয়াও রায়হানুল্লাহ।
অর্থ: আউলিয়াগণ আল্লাহর সুবাস (আল হাদিস)।

ওয়ালা-তাহ্সাবান্নাল্লাযীনা কূতিলূ ফী সাবীলিল্লা-হি আমওয়া-তা; বাল আহ্ইয়া উন ইন্দা রাব্বিহিম ইউরযাকূন (সূরা, আল আয়াত : ১৬৯)।

অর্থ: যারা আল্লাহর মহব্বতে জীবনকে উৎসর্গ করেছে; তাদেরকে মৃত মনে করো না, তারা বরং জীবিত, নিজের রবের নৈকট্যপ্রাপ্ত, নিজের রবের পক্ষ থেকে রিযিকও প্রাপ্ত।

ওয়ালা-তাকুলূ লিমাই ইউক্বতালু ফী সাবীলিল্লা-হি আম্ওয়া-তা; বাল আহইয়া উওঁ ওয়ালা-কিললা -তাশ’উরূন (সূরা বাক্বারা, আয়াত : ১৫৪)

অর্থ: যারা আল্লাহর মহব্বতে জীবনকে উৎসর্গ করেছে; তাদেরকে মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা জানো না।

ওয়া আন আবি হুরাইরাতা (রা.) ক্বালা ক্বালা রাসূলুল্লাহি (সঃ) ইন্নাল্লাহা তায়ালা মান আদালী অলি আন ফাক্বাদ আ-জানতুহু বিল হারবি, ওমা তাকাররাবা ইলাই ইয়া আবদি বি-শাইয়্যিন আহাব্বু ইলাই ইয়া মিম্‌মাফ তারতু আলাইহি অলা ইয়াজালু আবদি ইতাকাররাবু ইলাই ইয়া বিন্না ওয়াফিলি হাত্তা আহ্ বাবতুহু ফা-ইযা আহ্ বাবতুহু ফাকুনতু সাম আ-হুল্লাজি ইয়াসমাউ বিহি ওয়া বাছারা হুল্লাজি ইউবুসিরু বিহি ওয়া ইয়াদাহুললাতি ইয়ুবতিসু বিহা ওয়া রিজলাহুল্লাতি ইয়ামশি বিহা ওয়া ইন-সা আলানি লা-উতি আন্নাহু ওয়ালা ইন আসতায়া জানিলায়্যি জান্নাহু ওমা তারাদ্দু আনসাইয়্যিন আনা ফা-ইলাহু তারাদুদি আন নাফসিল মুমিনি ইকবাহুল মাওতা ওয়া আন আকরাহু মাসা আতুহু ওলা বুদদালাহু মিনহু। (রওয়াহুল তিরমিযি) বুখারী/তিরমিযী

অর্থ: প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেন, আল্লাহতা’লা বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি আমার কোনো প্রিয় বান্দাকে আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কারণে শত্রু মনে করে, তবে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম। অর্থাৎ আমার প্রিয় বান্দার সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করা মানে আমার সঙ্গেই যুদ্ধ করার নামান্তর। আর আমি যা কিছু আমার বান্দার ওপর ফরজ করে দিয়েছি, শুধু তা পালন করেই কোনো বান্দা আমার নৈকট্যলাভ করতে পারবে না। সুতরাং আমার প্রিয় বান্দারা ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদতের মাধ্যমেই সদাসর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। ফলে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। আর যখন আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যে কান দিয়ে সে শ্রবণ করে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যে চোখ দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যে হাত দিয়ে সে স্পর্শ করে। আমি তার পা হয়ে যাই, যে পা দিয়ে সে হাঁটে। অর্থাৎ, তার চোখ, কান, হাত, পা ইত্যাদি সবই আমার করুণা পরিবেষ্টিত হয়ে যায়। অনন্তর সে যদি আমার নিকট কোনো কিছু প্রার্থনা করে, আমি তাৎক্ষণিক তা প্রদান করি। যদি আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় প্রদান করি। আমি যে কাজ করতে চাই, তা করতে কোনো দ্বিধা-সংকোচ করি না, যতটা দ্বিধা-সংকোচ করি একজন মুমিনের জীবন সম্পর্কে। কেননা সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে, অথচ আমি তার বেঁচে থাকাকে অপছন্দ করি।টীকা: (ফাক্বাদ আজান্‌তাহু বিল হারবি) অর্থ: আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করি’ এই বাক্যটির মর্ম হল, আল্লাহর অলির সঙ্গে কোনো প্রকার বেয়াদবী করা কিংবা শত্রুতা করা, আল্লাহর কাছে তা খুবই অপছন্দনীয় এবং ঘৃণিত কাজ। সে কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহারকারী বা শত্রুতাকারীর সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। অথবা অলির সঙ্গে বেয়াদবীর মাধ্যমে স্বয়ং আল্লাহর সঙ্গে বেয়াদবী করা হয়, সে জন্যেই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা করা হয়েছে।

মান নাদানি বি-ইসমী ফি-কুরবাতীন কুশিফাত ওয়ামান ইশতাগাসা বি-ফি-শিদ্দাতিন কুরিজাত, ওয়ামান তাওয়াসালা বি ইলাল্লাহি ফি হা-জাতীন কুদিয়াত (বাহজাতুল আসরার)

অর্থ: যদি কেউ পেরেশানীতে পড়ে আমার সাহায্য চায়, তবে তার পেরেশানী দূর হয়। যদি কেউ কঠিন বিপদে পড়ে আমার সাহায্য চায়, তবে তার বিপদ দূর হয়। কেউ আমার উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চায়, মহান আল্লাহতা’লা তার বাসনা পূর্ণ করেন, (গাউসুল আযম আবদুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, (বাহজাতুল আসরার)।

আন আবি হুরাইরাতা রাদিআল্লাহুতা’লা আনহু ক্বালা ক্বালা রসূলুল্লাহি সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রব্বু আশআছা, আগবারা মাদফুইন, আনিল আবওয়বী, লাও আক্বসামা আলাল্লাহি লা আবরাহু (রওয়াহু মুসলিম)।

অর্থ: হযরত আবু হোরায়রা রাদিআল্লাহুতা’লা আনহু বর্ণনা করেন, নবী করিম সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এমন অনেক উসকো-খুশকো লম্বা চুলধারী ধূলামলীন বিশিষ্ট লোক আছে, যাদেরকে মানুষের দরজা থেকে বিতারিত করা হয়, অথচ তারা যদি আল্লাহর কাছে কিছু দাবী করে, তাহলে আল্লাহ তাদের সে দাবী পূরণ করেন (মুসলীম শরীফ)।

ক্বালা সাইদু জমালু মাক্কী ফি ফাত্তাওয়াহু সুইলতু আম্মান ইয়াকুলু ফিশ্শিদাইদি ইয়া রসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আও ইয়া শ্বাইখ আব্দুল ক্বাদির আল জিলানী শাইয়ান লিল্লাহি আও ইয়া আলীইউন হাল হুয়া যাইজিন আমলা ফাকুতু নাআম হুয়া আমরুন মাশরুউন ওয়া শাইউন মারগুবুন, লা ইউনকিরুহু ইল্লা মুতাকাব্বিরু আও মুয়ানিদুন ওয়াহুয়া মাহরামুন আন ফুউযিল আউলিয়া ইল্লাকিরামী ওয়া বারাকাতীহীম (বাহজাতুল আসরার)।

অর্থ: সৈয়দ জামাল মক্কী তাঁর এক ফতোয়ায় বলেছেন, আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি কঠিন বিপদে পড়ে সাহায্যের আশায় ‘ইয়া রসুলুল্লাহ’ অথবা ‘ইয়া শেখ আবদুল কাদির শাইয়ান লিল্লাহ’ অথবা ‘ইয়া আলী’ বলে ডাক দেয়া জায়েজ কি না? তদুত্তরে আমার মত হচ্ছে, এরূপ সাহায্য চাওয়া শরিয়ত মোতাবেক জায়েজ ও উত্তম। অহংকারী অথবা শত্রু ব্যতীত কেউ এটা অস্বীকার করে না। যে অস্বীকার করে, সে অবশ্যই আউলিয়াকিরামদের ফয়েজ ও বরকত থেকে বঞ্চিত থাকে (সৈয়দ জামাল মক্কী, মক্কার মুফতী)।

(Visited 1,770 times, 3 visits today)
Share