যেখানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের শেষ সেখান থেকে অলি-আউলিয়াদের চিকিৎসা শুরু

তানিয়া ইসলাম

আঁধার ঘরের আলো, লক্ষ লক্ষ আশেকান-জাকেরান ভাই-বোনের চোখের মণি, মাথার তাজ, হৃদয়ের স্পন্দন, ভক্ত-আশেকের মনমহাজন, খাজাবাবা কুতুববাগী ক্বেবলাজান হুজুর জ্যোর্তিময় পথের দিশারী। সেই মুর্শিদকে নিয়ে লেখার সাহস, ক্ষমতা বা যোগ্যতা এর কোনোটাই আমার নেই। তবু মুর্শিদের শিক্ষা অনুসারে সৎ সাহস নিয়ে মায়ের উৎসাহে আশেকমনের ভাব প্রকাশের যোগ্য মাধ্যম মাসিক ‘আত্মার আলো’তে নিজের প্রাপ্তি ও আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ের কিছু কথা আমার জাকের ভাই-বোনদের সঙ্গে লেখার মাধ্যমে বিনিময় করছি।

সেদিন ছিল ১ আগস্ট, শুক্রবার দিবাগত রাত। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল, উঠে বিছানায় বসলাম। শীতে কাঁপছি, জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। হঠাৎ এমন জ্বর কেনো হল বুঝতে পারলাম না। শুক্রবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত একাধারে ভীষণ জ্বর। কমছেই না। এর মধ্যে ডাক্তারের কাছে গিয়েছি দুইবার, ঔষধ খেয়েছি কিন্তু জ্বর কমছে না। খুব দুর্বল হয়ে পড়লাম, নাওয়া-খাওয়া প্রায় বন্ধ অবস্থা খুবই খারাপ। তখন বারবার শুধু মনে হচ্ছিল, এই বুঝি আজরাঈল (আ:) আমার জান কবচ করতে আসছেন! আমি মারা যাবো। এ অবস্থা দেখে বাবা-মা, ভাই তারা চিন্তায় পড়ে গেলেন। তাঁদের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। ওই অবস্থায় মনে হলো আমার প্রাণপ্রিয় দয়াল দরদী মুর্শিদ খাজাবাবা কুতুববাগী ক্বেবলাজান হুজুরের কথা। কারণ, চিকিৎসা বিজ্ঞানের যেখানে শেষ সেখান থেকে অলি-আউলিয়াদের চিকিৎসা শুরু হয়। বাবাজানের একটা ছবি মোবারক আমার শোবার ঘরে বাঁধাই করে রেখেছি, পরম বিশ্বাসে ও শ্রদ্ধাভরে তাঁর সম্মানে ঘরে সুঘ্রাণ রাখতে প্রতিদিন আগরবাতি জ্বেলে দেই। বুধবার রাতে যখন আমার অবস্থা খুবই খারাপ, তখন আমি হতভাক হয়ে বাবাজানের ছবি মোবারকের দিকে তাকিয়ে রইলাম অনেকক্ষণ। জ্বালানো আগরবাতির ছাই মাখলাম চোখে-মুখে। এর আগে একদিন আমার হাতে খুব ব্যাথা করছিল, তখন মা আমার হাতে আগরবাতির ছাই মেখে ম্যাসেজ করে দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই আমি সুস্থতা অনুভব করেছিলাম। এখনও সে বিশ্বাসে চোখে-মুখে ছাই মাখলাম। তারপর ওই অবস্থাতেই বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে  জেগে আমি তো অবাক। শরীরে জ্বর নেই! অথচ এতদিন যাবত ভুগছি, হাই-পাওয়ার এন্টিবায়োটিক খেয়েছি, কিন্তু জ্বর সারবে দূরে থাক, একটু নামতেও দেখিনি। অথচ এখন সেই জ্বর কোথায় গেল?

সকাল থেকে জ্বর নেই, শরীর খুব হাল্কা, ঝরঝরে লাগছে। দুর্বলতাও নেই! মনে হচ্ছে যেন আমার কিছুই হয়নি। সংসারের কাজ করছি আর ভাবছি, একি অবাক কা-! গত কয়েকদিন যাবত এতগুলো ঔষধ খেলাম কিন্তু তাতে কাজ হলো না। অথচ পরম বিশ্বাসে ক্বেবলাজানের উসিলা নিয়ে আগরবাতির ছাই চোখে মুখে মেখেছি শুধু, আর তাতেই আমি সুস্থ হলাম। কী আর বলবো, আমার মত অসংখ্য জাকের ভাই-বোনকে আরো কত বড় বড় অসুখ-বিসুখ থেকে বিনা ঔষধে বাবাজানের দোয়ার উসিলায় আল্লাহতায়া’লা মুক্ত করে দিয়েছেন। তখন আবারও বাবাজানের পবিত্র জবানের কথা মনে হলো, আল্লাহর অলিদের সঙ্গে আল্লাহতায়া’লার বিনা তারে সংযোগ আছে। তাঁদেরকে বিশ্বাস করে, উসিলা নিয়ে আল্লাহর দরবারে কিছু চাইলে তা কখনো বিফলে যায় না। আমিও এমন কঠিন জ্বর থেকে সুস্থ হতে পেরেছি শুধু আমার মুর্শিদের উসিলায়। বিনা উসিলায় আল্লাহর দরবারে কোন কিছুই কবুল হয় না যেমন, একটা শিশু পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয় তার মা-বাবার উসিলায়। জন্ম থেকে উসিলা ধরা শুরু হয়ে আখেরাত পর্যন্ত এই উসিলার কোন বিকল্প নেই। যেমন যাপিত-জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই উসিলা বা মাধ্যম প্রয়োজন হয়, তেমনি মৃত্যুর পরেও বিনা উসিলায় কেউ মুক্তি পাবে না। আর তাই তো বাবাজান বলেন, একা আর বোকা সমান।

ইহকাল-পরকালের বান্ধব খাজাবাবা কুতুববাগী ক্বেবলাজান হুজুরও আমাদের একমাত্র উসিলা। তাঁর কাছে আমরা তরিকা নিয়ে নতুন জীবনলাভ করেছি। অর্থাৎ আত্মিক জীবন, যে জীবন ছিল অন্ধকারে মৃত, সেই মৃত আত্মাকে জাগিয়ে তুলে অন্ধাকার ভেদ করে আলোর সন্ধান দিলেন বাবাজান। তাঁর এতই আধ্যাত্মিক ক্ষমতা যা লিখতে গেলে কলমের কালি শেষ হবে কিন্তু তাঁর গুণের কথা লিখে এই ক্ষুদ্র এক জীবনে শেষ করা যাবে না। বাবাজান আমাদের শিক্ষা দেন আত্মশুদ্ধি, দিলজিন্দা ও নামাজে হুজুরি সম্পর্কে। একজন কামেল মুর্শিদের সান্নিধ্যে এলে প্রথমেই আত্মাকে শুদ্ধ করতে হয়। মরা দিল জিন্দা করতে হয় এবং হুজুরি ক্বলবে আল্লাহকে হাজির জেনে নামাজ আদায় করতে হয়। বাবাজান আরো শিক্ষা দেন আদব, বুদ্ধি, মহব্বত, সৎ সাহস, বিশ্বাস ও ভক্তি। বাবাজানের তরিকার এই ছয়টা উপদেশ মেনে চলতে পারলে, ইহকাল ও পরকালে আমাদের কোন ভয় নেই।

আমরা তো আল্লাহকে দেখিনি, রাসুল (স:)-কেও দেখিনি। দেখেছি আমাদের প্রাণপ্রিয় মুর্শিদ ক্বেবলা খাজাবাবা কুতুববাগীকে। তাঁর মায়াময় নূরাণী চেহারা মোবারক দেখলেই মনে হয় আল্লাহ ও রাসুল (স:)-এর কথা। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, তোমরা সেই ব্যক্তির সঙ্গলাভ করো, যাঁকে দেখলে আমি আল্লাহর ভয় ও রাসুলের মহব্বত তোমাদের অন্তরে সৃষ্টি হয়। তাহলে এখন প্রশ্ন হলো সেই ব্যক্তি কে? বা কারা? পবিত্র কোরআন-হাদিস  মতে তাঁরা হলেন, জমানার মোজাদ্দেদ কামেল মোকাম্মেল পীর-মুর্শিদগণ। আর এমন মুর্শিদের দেখা সবার ভাগ্যে হয় না, যাদের বদনসিব তারা কামেল মুর্শিদ পায় না, ইহ জাগতিক ভোগবিলাসে ডুবে আসল সত্যকে ভুলে থাকে। আবার পেয়েও তারা অস্বীকার করে। হে আল্লাহতায়া’লা, আপনি তাদেরকে বুঝার এবং সত্যকে জানার তৌফিক দান করুন। আমার খাজাবাবা কুতুববাগী ক্বেবলাজান হুজুর তেমনই একজন নূরাণী মহাপুরুষ, যাঁর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করে, আল্লাহতায়া’লার ইবাদত ও দয়াল নবী রাসুল (স:)-এর প্রতি গভীর মহব্বত অন্তরে অনুভব করতে পারছি। ক্বেবলাজান হুজুরের কাছে অনেক কিছু জানার আছে, বুঝার আছে, দেখার আছে। তাই সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ভাষায় বলি, গুরুপদে ডুবে থাকরে আমার মন/ গুরুপদে না ডুবিলে জীবন যাবে অকারণ।

(Visited 400 times, 1 visits today)
Share