পরশ পাথর খাজাবাবা কুতুববাগী

এম এ সালেক আহম্মদ

আমার হৃদয়ের স্পন্দন, চোখের জ্যোতি, ইহকাল ও পরকালের বান্ধব, অন্ধকারের আলো আমার প্রাণপ্রিয় মুর্শিদ খাজাবাবা শাহসুফি আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ হযরত জাকির শাহ্ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী (মা.জি.আ.) ক্বেবলাজান হুজুরের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ এর কথাই আজ জানাতে চাই। তবে তার আগে আমার মুর্শিদের কদমে লক্ষ কোটি কদমবুচি জানাই। আজ থেকে প্রায় ২০-২২ বছর আগের কথা, তখন আমার বয়স ১৮-১৯। এক রাতে চার-পাঁচ জন সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পড়া মানুষ তাঁদের সঙ্গে আমার মুর্শিদ উপর থেকে আমার সামনে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে হাজির হন। আমার মুর্শিদ পালকির মধ্যে থেকে বের হয়ে আমাকে কিছু ছবক পড়ার হুকুম করেন। সেই হুকুম ছিলো ক্বলবের জিকির, ইসমে আজম এর যে জিকির প্রায় ১৮ বছর আমি প্রতিনিয়ত পালন করি এবং আমার স্বপ্নে দেখা সেই মুর্শিদকে বাংলাদেশের বিভিন্ন দরবার শরীফে খুঁজতে থাকি। অবশ্য আমার বয়স যখন ৬ বছর তখন থেকেই তরিকার কাজ শুরু করি এবং সাধারণ লেখাপড়ার (বাংলা) পাশাপশি তরিকতের কাজ করার চেষ্ট করি। আমার স্বপ্নে দেখা পরশ পাথর মুর্শিদকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও পেতে ব্যর্থ হই। তখন প্রতি বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহঃ)এর মাজার শরীফে রাত্রি যাপন করি। একদিন আবেগে আপ্লুত হয়ে হযরত শাহ আলী (রহঃ) এর দরবারে নালিশ করি যে, তোমার দরবারে কি আল্লাহর কোন অলি নেই? যদি থাকে তাহলে কেনো আমার সাক্ষাত হয় না? কেনো? জিয়ারত শেষে পরিচিত একজন বললেন, সালেক ভাই মাজার রোডে (ঢাকা মিরপুর) একজন পাগল বসে আছেন। কিন্তু তিনি কারো সঙ্গে কথা বলেন না। এমন কি কাউকে বাইয়াত গ্রহণও করান না। তাঁর নাম হযরত জুলফিকার হায়দার আলী। তাঁর দরবার মোহাম্মদপুর। আমি তখনই তাঁর কাছে উপস্থিত হই। ভাগ্যের কি পরিহাস, গত ১৪-১৫ বছর প্রতিনিয়ত তাঁর সঙ্গ দিই এবং স্বপ্নে দেখা সেই মুর্শিদকে খুঁজতে থাকি। একদিন আমি আমার ভুল বুঝতে পারি যে, হযরত শাহ আলী (রহঃ)এর কাছে কেনো বললাম না, আমার স্বপ্নের পরশ পাথরকে দেখাও। এই ভুলে অনুতপ্ত হতে থাকি। এরইমধ্যে হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নেই, আমাকে বাইয়াত নিতে হবে, অনেক দরবারে আমাকে মুরিদ করতে চাইতো কিন্তু আমি কিছু বলতাম না। তবু রাগে অভিমানে একদিন, মুরিদ হবার জন্য শাহজানপুর, খিলগাঁও ঢাকার একজন পীর সাহেবের কাছে উপস্থিত হওয়ার পর বহু সংখ্যক মুরিদ এবং পীর সাহেবের প্রধান খাদেম আমাকে দেখার পর অভিনন্দন জানালেন। উল্লেখ্য প্রধান খাদেম ওই পীর সাহেবের জন্মদাতা পিতারও প্রধান খাদেম ছিলেন, তিনি বহু দিন আগে থেকেই আমাকে মুরিদ করার চেষ্টা করেছিলেন। আমি মজলিশে বসে গেলাম কিছু কথার পরেই বাইয়াত করা আরম্ভ হলো। আমিও বাইয়াতের জন্য একে অন্যের কাঁধে হাত রাখলাম, ঠিক তখনই আমার অনুভূতি হলো, সারা পৃথিবী যেন আমার বুকের উপর এসে পড়ল এবং আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হতে চলল। আমি দিশা না পেয়ে কাঁধে থেকে হাত ছেড়ে মজলিশের এক কোণে গিয়ে বসলাম এবং বসার একটু পরেই পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গেলাম। আমার আর বাইয়াত নেয়া হলো না তবুও আমি ওই স্থান ছেড়ে উঠে আসলাম না। কারণ এভাবে চলে আসলে বেয়াদবি হতে পারে তাই মনে মনে ভাবলাম, সাক্ষাৎ করেই যাব। সাক্ষাৎ হলো পীর সাহেব আমাকে বললেন, বাবা এখন আপনার কেমন লাগে? আমি উত্তর দিলাম, আমার মালিকের ইচ্ছায় ভালো। তিনি বললেন, বাবা আপনাকে এখানে বাইয়াত হতে হবে না আপনার যখন ভালো লাগবে তখনই আপনি আসবেন।

আমি পীর সাহেব ও খাদেম সাহেবের নাম নিলাম না, তাহলে হয়তো পাঠকগণ আপনারা চিনবেন। এছাড়াও যদি বেয়াদবি হয় তাই আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। অবশেষে বাড়ি ফিরে আসি এবং আমার স্বপ্নে দেখা সেই পরশ পাথর মুর্শিদকে খুঁজতে থাকি ৪-৫ দিন পর আমার এক জাকের ভাই নাম মোঃ ছালাম হোসেন তিনি গোড়ান থাকেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, সালেক ভাই আমি ফার্মগেটের কুতুববাগ দরবার শরীফের মুর্শিদ ক্বেবলা হযরত জাকির শাহ্ বাবার কাছে মুরিদ হতে চাই, আপনি বললে মুরদি হব। আমি তাকে বললাম, ভাই আপনি নিঃসন্দেহে বাইয়াত গ্রহণ করতে পারেন। অবশ্য আমি প্রতি বৃহস্পতিবার ইন্দিরা রোডে কুতুববাগ দরবার শরীফের সামনে দিয়ে ভ্যানে কাফেলা করে মিরপুর শাহ আলী বাবার মাজার শরীফে যাই। কিন্তু কুতুববাগ দরবার সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। সত্যি এই দরবার এবং খাজাবাবা সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান ছিলনা যে, এখানে মহান আল্লাহর নূর প্রজ্বলিত আছে। সেই নূরের আলো যে পৃথিবী জুড়ে আলোকিত করবে তা জানা ছিল না। আমি ভাবতে শুরু করলাম যে, ছালাম ভাইকে বললাম আর তিনি বাইয়াতও হলেন, কিন্তু আমি তো কিছুই জানিনা। ঠিক তার পরের বৃহস্পতিবার আমি নিজেই কুতুববাগ দরবার শরীফে উপস্থিত হয়ে পীর সাহেবকে দেখে একপ্রকার দিশেহারা হয়ে যাই এবং আবেগ তাড়িত হয়ে কেঁদে ফেলি। আর মনে মনে ভাবতে থাকি যে, হে আমার দিশারী ঢাকার ফার্মগেটে থেকেও আমাকে বাংলাদেশের কত প্রান্তেই না ঘুরিয়েছেন। আমি কি এতই পাপী যে, এত বছর বুকে জ্বালা নিয়ে ঘুরতে হয়েছে? এবং আমার ইচ্ছা করছিলো স্বপ্নে দেখা সেই পরশ পাথরকে এবার বাস্তবে পেয়েছি তাই সবার মধ্য থেকে তুলে এনে হৃদয়ের মধ্যে রাখি। পরে পুনঃরায় জাহেরি বাইয়াত গ্রহণ করে সাক্ষাতের জন্য সামনে উপস্থিত হই। ইতিমধ্যে গোড়ান, সিপাহীবাগ এলাকার বাসিন্দা মাওলানা জোবায়ের হাসান সাহেব আমাকে দেখে আনন্দিত হলেন। অবশ্য জোবায়ের ভাইয়ের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই তরিকার পথে জানাশুনা। তিনি খাজাবাবা কুতুববাগীর সামনে উপস্থিত হয়ে আমার নাম না বলে বললেন, বাবা, ভাইজান আমার এলাকার এবং তরিকার লাইনে অনেক উপরে। এর উত্তরে খাজাবাবা বললেন, জোবায়ের বাবা, সালেক বাবাকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনি, আর তার সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলতে হবে না। আমার নাম তাঁর মুখে শোনা মাত্র আমার বুঝতে আর বাকি রইল না যে, এই আমার স্বপ্নে দেখা সেই পরশ পাথর। আমার আঁধার পথের আলো, চোখের জ্যোতি, বিপদের কান্ডারি ক্বেবলায়ে দোজাহান দরদি মুর্শিদ হযরত জাকির শাহ্ নকশ্বন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী ক্বেবলাজান হুজুর। সম্মানীত পাঠকবৃন্দ আমার বর্ণনায় কোনো ভুলত্রুটি বা বেয়াদবি হলে ক্ষমা করবেন।

(Visited 249 times, 1 visits today)
Share