ক্বেবলাজান হুজুরের সঙ্গে ভারতের পাঞ্জাব ও আজমীর শরীফ সফরে অলৌকিক ঘটনা

জি. এম খোরশেদ আলম

২০১১ সনের ঘটনা। আমার পরম সৌভাগ্য হয়েছিলো খাজাবাবা কুতুববাগী ক্বেবলাজান হুজুরের সঙ্গে ভারত সফর করার। ওই সফরে আমরা প্রায় ১৪-১৫ জনের একটি কাফেলা নিয়ে প্রথমে আমরা যাই ভারতের পাঞ্জাবে অবস্থিত আমাদের মোজাদ্দেদিয়া তরিকার ইমাম হযরত শেখ আহাম্মদ সেরহিন্দ কাইউমে জামানী মোজাদ্দেদ আল-ফেছানি আল-ফারুকী (রহঃ)এর পবিত্র মাজার শরীফ। সেখানে আমরা দুইদিন অবস্থান করার পর বাবাজান আমাদের আদেশ করলেন আজমীর শরীফে হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতি (রঃ)এর পবিত্র মাজার শরীফে যাবার জন্য। আমরা শেরহিন্দ শরীফ থেকে আজমীর শরিফে চলে আসলাম। আজমীর শরিফে আমরা হাজী সৈয়দ অহিদ হোসেন চিশতি সাহেবের অতিথি-শালায় অবস্থান করি। পরদিন সন্ধ্যায় আমার জাকের ভাই হাজী মহিউদ্দিন সাহেবকে নিয়ে মাজার শরীফ জিয়ারত করি। যাঁরা আজমীর শরিফে খাজাবাবার দরবারে গিয়েছেন তাঁরা জানেন, সেখানে দুইটি বিশাল বড় ডেগ (পাতিল) আছে। যাতে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে ভক্তদের জন্য তবারক রান্না করা হয়। আমি হাজী মহিউদ্দিন ভাইকে বললাম, বড় ডেকে (পাতিলে) তবারকের জন্য কিছু চাউল দিতে চাই। তিনি রাজি হলেন, আমরা মুদি দোকনে গিয়ে কিছু চাউল কিনলাম। এরপর বড় ডেগে চাউল দিয়ে আমরা ফিরে আসার সময় আমাদের সফরসঙ্গী অন্য জাকের ভাইদের সঙ্গে দেখা হয়। তাঁরা টুপি, তসবিহ, আতর বিক্রয় করে এমন দোকানের সামনে অবস্থান করছিলো। আমিও কিছু জিনিস কেনার জন্যে আমার কমরে বাঁধা হাজী বেল্টে হাত দিই কিন্তু মানিব্যাগটি পাই না! কিছুক্ষণ আগেও তবারকের চাউল কেনার সময় মানিব্যাগটা সেখানেই পাসপোর্ট এর সঙ্গে ছিলো। প্রায় আধা ঘন্টার ব্যবধানে মানিব্যাগটি না পাওয়ায় আমি খুবই অবাক হই এবং চিন্তিত হয়ে সফরসঙ্গীদের জানাই। তাঁরাও কয়েকজন আমার সমস্ত পকেট খুঁজে মানিব্যাগটি পেলেন না। তাঁরা আমাকে সান্তনা দিলেন। কিন্তু পরক্ষণে আমি খুব ভেঙ্গে পরলাম এই ভেবে যে, খাজাবাবার দরবারে না জানি কি ভুল হয়েছে বা অপরাধ করে ফেলেছি আমি। নইলে এই পবিত্র স্থানে আমি কেন এমন দুর্দশায় পড়লাম? আমি কোথায় অন্যায় করেছি? কি অন্যায় করেছি? কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এমন অনেক প্রশ্ন আমার মনে ঘুরতে লাগলো। আমার মন প্রচন্ডভাবে অশান্ত হয়ে উঠলো। আমি ওই স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ এবং নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। আমি ধরেই নিলাম, যে আমার কোন ভুল বা অন্যায় হয়ে গেছে, আর তাই আমার এই পরিণতি। আজ বিদেশের মাটিতে আমার সমস্ত টাকা হারিয়ে ফেলেছি। আমি মনে মনে আমার অপরাধের জন্য খাজাবাবার নিকট ক্ষমা চেয়ে নিলাম এই বলে যে, বাবা আজ আমার মহান মুর্শিদ এর সঙ্গে সফর করছি এবং তাঁরই নির্দেশে আপনার দরবারে এসেছি। আমি অনেক ভেবেও কিছু মনে করতে পারছিনা যে, কী ভুল আমি করেছি আপনার দরবারে। তবে বেয়াদবি বা অন্যায় অবশ্যই আমার হয়েছে। সেই জন্যই আজ আমার এই শাস্তি। খাজাবাবা, আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। এইভাবে মনে মনে ক্ষমা চাওয়ার পরেও আমার মন শান্ত হচ্ছিলো না। আশপাশে কি হচ্ছে কিছুই ভালো লাগছিলো না। আমি ওই স্থানেই ছটফট করছিলাম। এমন সময় আমার মনে হলো, আমি তো আমার মুর্শিদের নির্দেশেই এখানে এসেছি, আমার মুর্শিদ তো সবই জানেন। তাঁকেই আমার সব কথা বলা উচিৎ। আমি তখন ওই স্থানে দাঁড়িয়েই মোরাকাবার মাধ্যমে আমার বাবাজানের পবিত্র কদম মোবারকে চলে গেলাম। আর বললাম, বাবাজান আপনার নির্দেশেই মহান অলির দরবারে এসেছি। কি বেয়াদবি, কি অন্যায়, কি অপরাধ করেছি বুঝতে পারছি না। আপনি তো সব জানেন, আমার কিছুই ভালো লাগছে না আমার মন অশান্ত হয়ে আছে। আপনিই পারবেন বাবা আমার মনকে শান্ত করে দিতে। আমার কাছে আর কোন টাকা-পয়সা নেই। টাকা ছাড়া কীভাবে চলা চল করবো জানিনা। বাবা আপনি দয়া করলে আমার হারিয়ে যাওয়া টাকা ফিরে পাবো। এই নালিশ আমার মুর্শিদের কদমে করতে থাকলাম। কতটা সময় আমি ঐখানে দাঁড়িয়ে মোরাকাবা অবস্থায় ছিলাম বলতে পারবো না, আমি তন্দ্রার মধ্যে ছিলাম। যখন আমার তন্দ্রা কেটে গেলো, আমি বুঝতে পারলাম আমার ডান হাত পেন্টের পেছনের পকেটে এবং আমার দুইটি আঙ্গুল পকেটের মানিব্যাগ স্পর্শ করে আছে। আমি মানিব্যাগটি হাতে নিয়ে উপস্থিত আমার জাকের ভাইদের দেখালাম। তাঁরা সবাই অবাক! আমি বললাম, দেখেন আমার মহান মুশির্দের দয়া। এটাই অলি-আল্লাহর কেরামতি।

(Visited 1,653 times, 1 visits today)
Share