সম্পাদকীয় কলাম
আমাদের মহান মুর্শিদ খাজাবাবা কুতুববাগী কেবলাজান তার মহামূল্যবান নসিহত বাণী দিয়ে যেভাবে দিনের পর দিন ‘আত্মার আলো’ নামের এই মাসিক প্রকাশনাকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন, তা জাকের জাকেরিনসহ অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য এক মহামূল্যবান সম্পদ। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে তিনি প্রতিদিন হাজার হাজার জাকের আশেকানদের সাক্ষাৎ দেয়াসহ ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল, মুহূর্ত পার করেও আত্মার আলোর জন্য সময় দিচ্ছেন। কোরআন-হাদিস, ইজমা-কিয়াসের আলোকে শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফত সম্পর্ক জ্ঞান গর্ভ বিশ্লেষণমূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ তৈরি করছেন। প্রতিটি সংখ্যায় খাজাবাবার একাধিক নিবন্ধ মুদ্রিত হয়। পাশাপাশি জাকের-আশেক ভাইবোনেরাও তাদের নানারকম অনুভূতির কথা লিখছেন তরিকা গ্রহণ বা খাজাবাবার কাছে বাইয়াত গ্রহণের পর তাদের মধ্যে কী ধরণের পরিবর্তন এসেছে, সেসব অনুভূতির কথাও আমরা আত্মার আলোর মাধ্যমেই জানতে পারছি। এ জন্য অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে লাখো শোকরিয়া। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই যে, দেখতে দেখতে আত্মার আলোর প্রকাশনা তৃতীয় বর্ষে পদার্পন করলো। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে নিয়মিত প্রতি মাসে এর প্রকাশনা শুরু হয়। শুধু ২০১৫ সালে আমরা একটি সংখ্যা প্রকাশ করতে পারিনি। ফলে দুমাস মিলিয়ে একটি সংখ্যা বের করা হয়। তৃতীয় বর্ষের ১ম সংখ্যায় আমরা আমাদের নিয়মিত পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, আশেক জাকের-ভাইবোনরদের জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ। আশা করি অতীতের মতই আত্মার আলো নিজেরা যেমন পড়বেন, তেমনই এই জ্ঞানের দীপশিখা সমাজে সবার কাছে ছড়িয়ে দিয়ে, সমাজকে আলোকিত করতে সহায়তা করবেন। এ সংখ্যায়ও বোখারি ও মুসলিম শরীফের হাদিসি দলিল দিয়ে কেবলাজান হুজুর আধ্যাত্মিক সাধকের কাছে বায়েত হওয়ার তৎপর্য বর্ণনা করেছেন। ১০০ খুন করেও যে শুধু বাইয়াতের নিয়তে কামেল মুর্শিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে মহান আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছেন, তা জেনে নিশ্চয়ই সুফিবাদের তৎপর্য ও গুরুত্ব অনেকে বুঝতে পারবেন। খাজাবাবা কুতুববাগীর অমিয় বাণীগুচ্ছ পড়েও শুদ্ধ জীবনের পথ পাবেন অনেকে। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়েও যে, সুফিবাদের তাৎপর্য উপলব্ধি করেছেন, সাধকের মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন, তা জেনে অনে কেই মুগ্ধ হবেন। আত্মার আলোর মাধ্যমে পরিশেষে সবাইকে এই আহ্বান জানাই আগামী ৮ই এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার কুতুববাগ দরবারের খানকাহ শরীফে বিশ্ব জাকের ইজতেমা। এই ইজতেমায় সবাই যোগদান করে দো’জাহানের অশেষ নেকি হাসেল করবেন এই আমাদের প্রত্যাশা।